‘বিএসএফের ধাওয়ায়’ নদীতে ডুবে ২ শিশু নিখোঁজ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ১০:৩২ পিএম, ০২ জুলাই ২০২২
সন্তানদের শোকে কাতর সামিনা খাতুন

সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ধাওয়া খেয়ে পালাতে গিয়ে নীলকমল নদে দুই শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (১ জুলাই) দিনগত রাতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তাদের সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ দুই শিশু হলো- নাগেশ্বরী উপজেলার পশ্চিম শুকাতি গ্রামের রহিচ উদ্দিনের মেয়ে পারভিন খাতুন (৮) ও সাকেবুর হাসান (৪)। সন্তানদের না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মা সামিনা খাতুন। হতভম্ব বাবা রহিচ উদ্দিন বুকচাপড়ে কাঁদছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার দিনগত রাতে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য রহিচ উদ্দিন, তার স্ত্রী সামিনা খাতুন, ছেলে সাকেবুর, মেয়ে পারভিন এবং তাদের সঙ্গে থাকা সুলতানকে নীলকমল নদের তীরে পানিতে দাঁড় করিয়ে রাখে দালালরা। টের পেয়ে টহলে থাকা বিএসএফ সদস্যরা বাঁশি বাজাতে থাকে। পরে ভয় পেয়ে সবাই পানিতে ঝাঁপ দিলে ডুবে যায় পারভিন ও সাকেবুর। তাদের বাবা রহিচ ও মা সামিনা ফের তীরে এসে চিৎকার শুরু করলে মানবপাচারকারী তিনজন তাদের গালিগালাজ করতে থাকে এবং তাদের দ্রুত বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য চাপ দিতে থাকে। তারা সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও শনিবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিশু দুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রহিচের মামা জিয়া উদ্দিন বলেন, ১৬ বছরে আগে অভাবের তাড়নায় আমার ভাগনে অন্যদের সঙ্গে কাজের সন্ধানে দিল্লি যায়। সেখানে কাজ করার সুবাদে ২০০৫ সালে ভারতের দিনহাটা থানার নয়ারহাট এলাকার সাজেদুল হকের মেয়ের সঙ্গে রহিচের বিয়ে হয়। এরই মধ্যে তাদের কোলে জন্ম নেয় পারভিন ও সাকেবুল। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে অবৈধ পথে বাড়ি ফেরার সময় ঘটে যায় এ নির্মম ঘটনা।

রহিচ উদ্দিন বলেন, সন্তানরা আমার জন্মভূমি দেখেনি। এজন্য ঈদ করতে বাড়িতে প্রথমবার নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। তাদের নতুন পোশাক কিনে রাখা হয়েছে। দেশে ফেরার জন্য ভারতের দালালদের সঙ্গে ৩০ হাজার টাকা চুক্তি করা হয়েছে। তারা আমাদের রাতে সীমান্তে কোনো এক বাড়িতে নিয়ে এসে রাখে। সেখানে আরও ২০-২৫ জন নারী পুরুষ ও শিশু ছিল। গভীর রাতে ধর্মপুর সীমান্ত দিয়ে পার করার চেষ্টা করে। তারা কাঁটাতার পার করে নদী পথে নিয়ে আসে। এজন্য নদীর তীরে আমাদের রাখে। এ সময় ভারতের শেউটি ক্যাম্পের বিএসএফের সদস্যরা লাইট জ্বালিয়ে দেখার পর আমাদের ধাওয়া করে। দালালরা তড়িঘড়ি করে নদী পার হতে বলে। আমি জিনিসপত্র নিয়ে নদীর মাঝপথে যাই। এ সময় আমার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে নদীতে নামে। কিন্তু তারা কেউই সাঁতার জানে না। স্রোতের টানে রাতের অন্ধকারে স্ত্রীর হাত থেকে আমার সন্তানরা নিখোঁজ হয়। পানিতে ডুবে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। তাদের সন্ধান পাইনি। কষ্ট করে আমার স্ত্রীকে পার করে বাংলাদেশে এনেছি। আমার সন্তানরা বেঁচে আছে না মারা গেছে কোনো হদিস পাইনি।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি কাশিপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার কবির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার পথে দুটি শিশু নিখোঁজ হয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিএসএফকে জানানো হয়েছে।

মাসুদ রানা/এসজে/এমএইচআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]