ইরান যুদ্ধ

পাকিস্তানে ‘তেল সংকটের’ আশঙ্কায় পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৩৮ পিএম, ০৭ মার্চ ২০২৬
পাকিস্তানে ‘তেল সংকটের’ আশঙ্কায় পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন/ ছবি: ডন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পাকিস্তানেও। সম্ভাব্য তেল সংকটের আশঙ্কায় করাচির বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে এবং কিছু পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়েছে।

পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের কোনো ঘাটতি নেই। তবে নতুন জ্বালানি মূল্যের ঘোষণা কার্যকর হওয়ার আগের রাতেই অনেক নাগরিক তড়িঘড়ি করে জ্বালানি কিনতে পাম্পে ভিড় করেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে করাচির সাদ্দার ও শাহরাহে ফয়সাল এলাকার পেট্রোল পাম্পগুলোতে গাড়ির বিশাল সারি দেখা যায়। এতে ওই সড়কগুলোতে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।

আরও পড়ুন>>
সৌদিতে ড্রোন হামলা: চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান কি যুদ্ধে জড়াবে?
খামেনি হত্যার প্রতিবাদে করাচিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলা, গুলিতে নিহত ৮
খামেনি হত্যার প্রতিবাদে করাচিতে বিক্ষোভে গুলি চালায় মার্কিন বাহিনী

জানা গেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় অনেকেই বেশি করে জ্বালানি মজুত করতে শুরু করেন। অন্যদিকে, সম্ভাব্য বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির আশায় অনেক পাম্প মালিকও দিনের বেলায় জ্বালানি সরবরাহ কমিয়ে দেন বা কিছু পাম্প বন্ধ রাখেন।

তবে পাকিস্তান সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর শনিবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পেট্রোলিয়াম ডিলারদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এই প্রণালী মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ।

পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আবদুল সামি খান বলেন, পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ কমে গেছে বলে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, কিছু তেল বিপণন কোম্পানি পাম্পগুলোতে সরবরাহ প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, যদি দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকে, তাহলে পাম্পগুলোতে সরবরাহ বাড়ানো উচিত।

তবে করাচির এক পেট্রোল পাম্প মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকৃতপক্ষে জ্বালানির বড় কোনো ঘাটতি নেই। বরং সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আগে বেশি লাভের আশায় কিছু পাম্প মালিক গ্রাহকদের কম জ্বালানি দিচ্ছেন।

বর্তমানে অনেক পাম্পে গাড়িতে সর্বোচ্চ তিন থেকে চার লিটার এবং মোটরসাইকেলে এক লিটার করে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: ডন
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।