৭শ’ টাকার খাবার খাওয়া পাগলা রাজার দাম ১৫ লাখ
ষাড়টির নাম ‘পাগলা রাজা’। মাত্র এক বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ান জাতের পাগলা রাজাকে ৫৭ হাজার টাকায় কিনে বাড়িতে এনেছিলেন রেজাউল করিম। চার বছর দেশি খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করেছেন। এখন পাগলা রাজার ওজন প্রায় ৩৫ মণ। এবার ঈদে বিক্রির ঘোষণা দেওয়ার পর প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসছেন। রেজাউল করিম পাগলা রাজার দাম হাঁকছেন ১৫ লাখ টাকা।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের মারমী গ্রামের বটতলা মোড়ের বাসিন্দা রেজাউল করিম নিজের বাড়িতে সাড়ে তিন বছর ধরে পাগলা রাজাকে পালন করেছেন। বিশাল আকারের এ ষাড় গরুটি পরিচর্যা করা খুই কঠিন। সারাদিন পাগলা রাজার যত্ন নেন রেজাউল করিমের স্ত্রী আসমা বেগম। প্রতিদিন গড়ে ৭০০ টাকার খাবার দিতে হয় এ ষাঁড়কে। কাঁচা ঘাসের পাশাপাশি ভুষি, খৈল, ভুট্টা ও ধানের কুঁড়াসহ বিভিন্ন খাবার খায় পাগলা রাজা।
আসমা বেগম জানান, এক বছর বয়স থেকে পাগলা রাজাকে পালন করছি। এ গরুর প্রতি মায়া জন্মে গেছে। আমার চাহনি ও ঈশারা এখন সব বুঝতে পারে ও। এত বড় গরু বাড়িতে পালন করা কঠিন। গোয়াল থেকে বাইরে বের করতে ৪ থেকে ৫ জন মানুষ লাগে। এবার কোরবানির ঈদে গরুটি বিক্রির চেষ্টা করছি। অনেকেই আসছেন, দরদাম করছেন। আশা করি ন্যায্যমূল্যেই এটি বিক্রি করতে পারবো।

রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, শখের বশে পাগলা রাজাকে পালন করেছি। সাড়ে তিন বছরে খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা। আশা করছি ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবো। ক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম করে পাগলা রাজাকে বাড়ি থেকেই বিক্রি করতে চাই। এ ষাড় গরুটি হাটে নিয়ে যাওয়া খুব কষ্ট হবে। ৪ থেকে ৫ জন গোয়াল ঘর থেকে ধরে বের করতে হয়। তাছাড়া হাটে প্রচণ্ড গরম। গরমে এটি অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, উপজেলায় এবার কোরবানির জন্য ২৩ হাজার ৯৩৫টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের এসব গরু এরই মধ্যে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বিদেশি উন্নত জাতের বড় ষাড় খামারি ও কৃষকরা পালন করেছেন। এসব গরু বিক্রি করে খামারিদের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এফএ/জিকেএস