নওগাঁয় জমেছে হাট, মাঝারি গরু বেচাকেনা বেশি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৮:৩৮ পিএম, ০৫ জুলাই ২০২২
গরু আমদানির পাশাপাশি ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদেরও

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নওগাঁয় জমে উঠেছে পশুহাট। প্রত্যেক হাটেই ব্যাপক পশুর আমদানি হচ্ছে। ক্রেতারা সাধ্যের মধ্যে পছন্দের গরু কিনছেন। বিক্রেতারাও কাছাকাছি দাম হলেই ছাড়ছেন। তবে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি।

এদিকে হাটে প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে ভ্রাম্যমাণ ভ্যাটেনারি টিম কাজ করছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাসহ এ টিমে পাঁচ-সাতজন উপ-সহকারী প্রাণী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রয়েছে। যেখানে ফ্রিতে পশুর স্বাস্থ্যসেবা ও প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এমন উদ্যোগে কোরবানিদাতারা উপকৃত হচ্ছেন।

jagonews24

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার গোবরচাঁপায় সাপ্তাহিক হাটে আসা ময়নুল হক বলেন, ‘কোরবানি উপলক্ষে পশুর হাটগুলো জমতে শুরু করেছে। কয়েকদিন পর ঈদ। পছন্দ করে যে যার মতো গরু কিনছেন। দাম সাধ্যের মধ্যেই আছে। মাঝারি গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে। সামনের যে হাটগুলো রয়েছে প্রচুর পশুর আমদানি হবে।’

ভান্ডারপুর গ্রামের গরু বিক্রেতা হাসান আলী বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগে কৃষকের বাড়ি থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় ষাঁড় গরু কিনেছি। গোবরচাঁপা হাটে নিয়ে আসার পর ক্রেতারা ৮০-৯০ হাজার টাকা দাম বলছেন। গরুর বাজার খুব একটা ভালো মনে হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে তো অনেক খামারিকে লোকসান গুনতে হবে।’

jagonews24

আব্দুল আজিজ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘মানুষ বড় গরু কিনতে চাচ্ছে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। স্বল্প দামের মধ্যে মাঝারি ও ছোট সাইজের গরু কিনার আগ্রহ বেশি। তবে বড় ব্যবসায়ীরা ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য দাম দিয়ে বড় গরু কিনছেন।’

মথুরাপুর গ্রামের জয়নাল হোসেন। নিজে কোরবানি দেওয়ার জন্য গোবরচাঁপা হাটে অনেক খুঁজে ৩৫ হাজার টাকার একটি গরু কিনেন। তিনি বলেন, ‘গরু কেনার পর মনের মধ্যে সন্দেহ হয়। পরে হাটে থাকা ভ্যাটেনারি ডাক্তার দিয়ে ফ্রিতে পরীক্ষা করে দুশ্চিন্তামুক্ত হলাম। কারণ বকনা গরু কেনার পর বাড়ি নিয়ে দেখা যায় গর্ভবতী। এমন ঘটনা অনেকেরই হয়েছে। ঈদের দিন আর কোরবানি দিতে পারেনি। শুধু প্রেগনেন্সি নয় স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হচ্ছে। হাটে ভ্রাম্যমাণ টিম থাকায় কোরবানিদাতাদের জন্য সুবিধা হয়েছে।’

jagonews24

বদলগাছী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হক জাগো নিউজকে বলেন, গত দুই বছর করোনাভাইরাসের কারণে হাটে তেমন পশুর আমদানি দেখা যায়নি। তবে এবার প্রচুর পরিমাণ পশু হাটে আমদানি হয়েছে এবং বিক্রিও হচ্ছে। এ উপজেলা পাঁচজন সদস্য করে দুটি ভ্যাটেনারি টিম রয়েছে। ভ্যাটেনারি এ টিমের মাধ্যমে ফ্রিতে পশুর স্বাস্থ্যসেবা ও প্রেসনেন্সি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এতে করে কোরবানিদাতারা স্বাস্থ্যসম্মত ও কোরবানি যোগ্য পশু কিনতে পারছেন। কোরবানিদাতারা আগ্রহ সহকারে পশু পরীক্ষা করে নিচ্ছেন।

আব্বাস আলী/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।