নৌকায় পাচারের সময় ১২৮ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার, আটক ২

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১১:৪২ এএম, ০৮ জুলাই ২০২২
ফাইল ছবি

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে নৌকায় পাচারের সময় ১২৮ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় নৌকার মাঝিসহ দুজনকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের বাউসাম বাজার থেকে সরকারি চালসহ তাদের আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাউসাম বাজারে খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হকের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে পাচারের জন্য ভিজিএফের ৩০ কেজির চালের বস্তা মেদিকান্দি খালে নৌকায় তোলা হচ্ছে। এমন খবরে খবরে পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাসেম অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় নৌকা থেকে ১২৮টি চালের বস্তা উদ্ধার করা হয়।

এ সময় নৌকার মাঝি খারনৈ ইউনিয়নের গজারমাড়ি গ্রামের বাসিন্দা দুদু মিয়ার ছেলে জজ মিয়াকে স্থানীয়রা গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেন। তাকে আটকের পর কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে নৌকায় থাকা আরমান নামের এক যুবককেও আটক করা হয়। তিনি গজারমাড়ি এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে।

আটক নৌকার মাঝি জজমিয়া বলেন, ‘চালগুলো স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল কালামের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। আমাকে নৌকায় করে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক বলেন, ‘গতকাল সরকারি চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামকে নিয়ে চাল স্থানীয়দের মাঝে বিতরণ করেছি। কিছু চাল আজ শুক্রবার বিতরণের কথা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া চালগুলো আমার নয়। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।’

ওই ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. তারিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সারাদিন চাল বিতরণের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসায় চলে আসি। দুই ট্যাগে ২৮ বস্তা ও এক-দুই বস্তা খোলা অবস্থায় ছিল তা দেখে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আসার পর পুলিশের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান চাল বিতরণ করে থাকতে পারে। তবে মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করিনি।’

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইউএনওকে নিয়ে সরকারি সিলমোহর যুক্ত ১২৮ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নৌকার মাঝিসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

ইউএনও আবুল হাসেম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. লতিফুর রহমান বাদী হয়ে চেয়ারম্যানসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।’

এইচ এম কামাল/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।