৪ স্তরের নিরাপত্তায় শোলাকিয়ায় হলো ঈদের জামাত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:২৫ এএম, ১০ জুলাই ২০২২
প্রায় ২০ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজে অংশ নেন

দেশের বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। এবার শোলাকিয়ায় ছিল ১৯৫তম ঈদের জামাত। এতে ইমামতি করেন শহরের মার্কাজ মসজিদের ইমাম মাওলানা হিফজুর রহমান। এ দিকে জামাতকে ঘিরে নেওয়া হয় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

রোববার (১০ জুলাই) সকাল ৯টায় শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত শুরু হয়। এর আগে ভোর থেকে মুসল্লিরা দলে দলে আসতে থাকে ঈদগাহ মাঠে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজসহ বিশিষ্টজনরা এ ঈদগাহে নামাজ আদায় করেন।

৪ স্তরের নিরাপত্তায় শোলাকিয়ায় হলো ঈদের জামাত

মুসল্লিদের বিশ্বাস শোলাকিয়া ঈদগাহে পরপর তিনবার ঈদের নামাজ পড়লে হজের সওয়াব পাওয়া যায়। তাই এ মাঠে নামাজ পড়তে ছুটে আসেন দেশের নানা প্রান্তের মানুষ। অনেকেই বংশ পরম্পরায় এ মাঠে নামাজ পড়ে আসছেন।

এদিকে নামাজকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে র্যাব-পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন ছিল বিজিবিও। মাঠে প্রবেশের আগে মুসল্লিদের চারটি নিরাপত্তা চৌকি পার হতে হয়। সিসি ক্যামেরায় মনিটর করা হয় মাঠের ভেতর ও চারপাশ। মাঠের চারপাশে ছিল ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার এবং চারটি শক্তিশালী ড্রোন ক্যামেরা মনিটর করে চারপাশ।

৪ স্তরের নিরাপত্তায় শোলাকিয়ায় হলো ঈদের জামাত

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘মুসল্লিদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জাগো নিউজকে বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের শুধুমাত্র জায়নামাজ নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। নামাজের আগ পর্যন্ত কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হয়নি।

৪ স্তরের নিরাপত্তায় শোলাকিয়ায় হলো ঈদের জামাত

তিনি আরও বলেন, দূরের মুসল্লিদের জন্য কিশোরগঞ্জ-ভৈরব এবং কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করে।

কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীর ঘেঁষে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের অবস্থান। প্রতি বছর ঈদের জামাতে অংশ নেন দেশ-বিদেশের লাখো মুসল্লি। তবে কোরবানির আনুষ্ঠানিকতার কারণে এবার শোলাকিয়ায় মুসল্লির সংখ্যা ছিল কম।

১৮২৮ সালে শোলাকিয়া মাঠে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া। যা এখন শোলাকিয়া নামে পরিচিত।

নূর মোহাম্মদ/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।