কোরবানিদাতাদের জড়ো করা মাংস দেওয়া হয় গ্রামবাসীকে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১১:০৫ এএম, ১১ জুলাই ২০২২
মাংস একজায়গায় জড়ো করেন কোরবানিদাতারা

ফরিদপুরের নগরকান্দায় দুই গ্রামের কোরবানি দেওয়া পশুর মাংস দরিদ্রদের অংশ বণ্টন কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী। মাংস সব কোরবানিদাতারা গ্রামের একটি জায়গায় জড়ো করেন। এরপর সে মাংস সমান ভাগ করে গ্রামের কোরবানি না দেওয়া পরিবারকে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এতে গ্রামের সব পরিবারের মাঝেই তারা কোরবানির মাংস পৌঁছে দিতে পারেন। গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলোও ভালো পরিমাণ মাংস পেয়ে খুশি হন। একটি পরিবারও বাদ যায় না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তালমার কোনাগ্রামটি জেলা সদর ও নগরকান্দার মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। গ্রামটি বেশ বড়। প্রায় ৬০০ পরিবারের তিন হাজার প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ রয়েছেন এ গ্রামে। আশপাশে পাড়া-মহল্লার ১০টি জায়গায় এবার সম্মিলিতভাবে কোরবানি দেন গ্রামবাসী। এরপর প্রত্যেকটি পরিবারের তালিকা করে সেই মাংস পৌঁছে দেওয়া হয় নির্দিষ্টদের ঘরে। একটি পরিবারকেও তারা বাদ দেন না দল বা মতের ভিন্নতা থাকলেও।

অন্যদিকে, সালথা উপজেলার জুগিডাঙ্গা গ্রামে এ রীতি চলছে প্রায় এক যুগ ধরে। এবছর এ গ্রামে কোরবানি হয়েছে পাঁচটি গরু ও চারটি ছাগল। এসব পশু থেকে জবাইয়ের পর এক-তৃতীয়াংশ বাবদ পাওয়া গেছে প্রায় ১৬০ কেজি মাংস। এ মাংস এক করে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাপঝোঁক শেষে দুপুরের পরপরই বণ্টন করে দেওয়া হয় ১১৮টি পরিবারকে। প্রত্যেক পরিবার পেয়েছেন ১ কেজি ৪০০ গ্রাম করে।

নগরকান্দা উপজেলার কোনাগ্রামের সন্তান কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল জাগো নিউজকে বলেন, পূর্বপুরুষদের আমল থেকে তাদের গ্রামে এ রীতি চলে আসছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে ঢাকা বা অন্য স্থানে থাকলেও তারা ঈদে গ্রামে চলে আসেন।

তিনি বলেন, এবার গ্রামের প্রতিটি মহল্লায় ঘুরে দেখেছি। আমাদের বাড়িসহ কমপক্ষে দশটি স্পটে কোরবানি দেওয়া হয়েছে। এরপর এর এক-তৃতীয়াংশ ভাগ গ্রামের প্রত্যেক পরিবারের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যুগের পর যুগ ধরে এ রীতি চলে আসছে আমাদের গ্রামে।

কোরবানিদাতাদের জড়ো করা মাংস দেওয়া হয় গ্রামবাসীকে

সালথার জুগিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এস এম মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে জানান, এবার তাদের গ্রামের আটজন কোরবানি দেন গরু এবং খাসি কোরবানি দিয়েছেন চারজন। কোরবানিদাতা তাদের এক-তৃতীয়াংশ মাংস পাঠিয়ে দেন গ্রামের মমিন শেখের বাড়িতে। সেখানে সবার কাছ থেকে পাওয়া গরু ও খাসির গোশত মিলিয়ে পাওয়া যায় ১৬০ কেজির মতো। সব মাংস এক করে মেপে ১১৮ ভাগ করেন তারা। এরপর গ্রামের সবাই সেখানে এসে নিজেদের প্রাপ্য অংশ নিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, তবে গ্রামের সব পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বণ্টনের এ রীতিতে বাধাও আছে। বিশেষত সালথা এলাকাটি গ্রাম্য দলাদলিপ্রবণ। এখানে নিজ দলের বাইরের কারও প্রতি সহানুভূতি দেখানোও মানা। তবে কোরবানি যেহেতু একটি ধর্মীয় কাজ তাই গ্রামের দলবিভক্ত মাতব্বরদের বুঝিয়ে মাংস বিলোনো হয়।

রোকন শিকদার (৬০) নামের ওই গ্রামের এক বৃদ্ধ জাগো নিউজকে বলেন, আগে এমনটি হতো না। তখন অনেক পরিবার কোরবানি না দিলেও তারা মাংস চাইতে পারতো না। আবার কমবেশি পেয়ে অনেকে কষ্ট পেতো মনে। তবে এখন আমরা ঈদের দিনে ঈদ আনন্দ পৌঁছে দিতে পারি গ্রামের প্রতিটি ঘরে।

এন কে বি নয়ন/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।