দেবে যাওয়া নির্মাণাধীন সেতুতে নিয়ম মানা হয়নি: দুদক
টাঙ্গাইল পৌরসভার বেড়াডোমায় লৌহজং নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুতে কোনো নিয়ম মানা হয়নি বলে মন্তব্য করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম। স্টিলের পাইপের পরিবর্তে বাঁশ এবং কাঠের তৈরি খুঁটি দিয়ে সেতুর গার্ডার ও স্ল্যাবের সেন্টারিং করা, সাইটে ঠিকাদারের প্রকৌশলীর অনুপস্থিত থাকা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই সেতুটি নির্মাণের আগে দেবে গেছে বলে জানান তারা।
সোমবার (২৫ জুলাই) বিকেলে দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল্লাহ বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, একটি এনফোর্সমেন্ট টিম টাঙ্গাইল পৌরসভার বেড়াডোমায় লৌহজং নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু এলাকা পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বিস্তারিত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছে। এনফোর্সমেন্ট টিম দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ৮ মিটার প্রস্থ ও ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩ কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর থেকে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে। চলতি বছরের ১১ মে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

জুনের মাঝামাঝি সময়ে সেতুর ওপরের অংশে ঢালাই কাজ করা হয়। কিন্তু ১৬ জুন রাতে সেতুর মাঝখানের সেন্টারিং সরে সাড়ে তিন েফুট দেবে যায়। এ নিয়ে জাগোনিউজ২৪.কমসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর দুদকের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয় সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রহমানের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম গঠন করা হয়।
টিমের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল্লাহ, কোর্ট পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম, উপ-সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ ও জাহেদ আলম। ২৪ জুলাই টিম সরেজমিনে পরিদর্শন করে।
এ নিয়ে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম জানায়, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সেতুর মাঝখানে দেবে গেছে। স্পেসিফিকেশন বহির্ভূতভাবে সেতু নির্মাণকাজ শুরু করা, গার্ডার ও স্ল্যাবের সেন্টারিং কাজে স্টিলের পাইপের পরিবর্তে গজারি, ইউক্যালিপটাস ও বাঁশের পাইল ব্যবহার, ঠিকাদারের দায়িত্বে অবহেলা ও সাইটে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীর অনুপস্থিতিসহ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।
আরিফ উর রহমান টগর/এসজে/এএসএম