ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজিবির হাতে জব্দ হওয়া প্রায় ২৪ কোটি টাকারও বেশি মাদক ধ্বংস করা হয়েছে। সোমবার (২৫ জুলাই) ২৫ ও ৬০ ব্যাটালিয়ন যৌথভাবে এ মাদক ধ্বংস করে।
বিজিবি ৬০ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর সুলতানপুরে মাদকগুলো ধ্বংস করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ২৩ কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার ৯৩০ টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বিজিবি। সরাইল বিজিবি ১১ কোটি ৫৬ লাখ ৫১ হাজার ৬৬০ টাকা ও সুলতানপুর বিজিবি ১২ কোটি ১৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৭০ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করে।
২৫ ব্যাটালিয়ন সরাইল বিজিবির জব্দ করা মাদক দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ২৪ হাজার ৩৭০ বোতল ফেনসিডিল, ৮৮ হাজার ১০০ বোতল ইস্কাপ সিরাপ, ১ হাজার ৪৩৯ বোতল বিয়ার ক্যান, ৮ হাজার ২৬৭ বোতল হুইস্কি, ৭ হাজার কেজি ৫৭৫ গ্রাম গাঁজা, ১ লাখ ২৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮৩.২৫ লিটার চোলাই মদ, ৪ লাখ ২৮ হাজার ১৭০ পিস পাতার বিড়ি।

৬০ ব্যাটালিয়ন সুলতানপুর বিজিবি ১৪ হাজার ২৬১ বোতল ফেনসিডিল, ১৯ হাজার ৯৯ বোতল ইস্কাপ সিরাপ, ৪ হাজার ৪৯৪ বোতল বিয়ার ক্যান, ৩২ হাজার ৪৮৯ বোতল হুইস্কি, ৯ হাজার কেজি ৯৩০ গ্রাম গাঁজা, ৭৭ হাজার ৮৪৫ ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫২০ বোতর ফরমুলা সিরাপসহ বিভিন্ন ছোট ছোট মাদকের চালান জব্দ করে।
সূত্র আরও জানায়, পূর্বাঞ্চলের ১২৮ কিলোমিটার সীমান্তে জব্দ করা মাদকগুলোর মধ্যে দামি হচ্ছে ইস্কাপ, ফেনসিডিল, গাঁজা, হুইস্কি ও ইয়াবা। সীমান্ত এলাকাসহ সারাদেশেই এগুলোর চাহিদা বেশি।
মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলী আজাদ)। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, কুমিল্লা সদর সপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মারুফুল আবেদীন, সুলতানপুর ব্যাটালিয়ান (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আশিক হাসান উল্লাহ, সরাইল ২৫ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফেরদৌস কবীর প্রমুখ।
বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আজ যে পরিমাণ মাদক ধ্বংস করা হয়েছে তাতে কিন্তু প্রমাণ হয় যে বিজিবির সদস্যরা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। স্থলপথের পাশাপাশি এখন আকাশপথেও মাদক আসছে। চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল বদলাচ্ছেন। আমরাও সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।’
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/এএসএম