ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস বন্ধের অজুহাতে ৫০ টাকার ভাড়া ১০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ নিচ্ছেন চালকরা। রোববার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস সরবরাহ না থাকার অজুহাতে ভাড়া বাড়িয়েছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে ভারতের আগরতলা চার লেন সড়কের উন্নতীকরণের প্রকল্পের ইউটিলিটি সিফটিংয়ের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা থেকে পুনিয়াউট নতুন বাইপাস মহাসড়ক পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইনের কমিশনিং কাজ রোববার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। এজন্য তিনদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও সরাইল এলাকার আবাসিক এবং বাণিজ্যিক উভয় গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এতে সিএনজি পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ নিচ্ছেন চালকরা। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুরের বাসিন্দা বাকের আহমেদ খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘জরুরি কাজে বিকেলে জেলা শহরে যেতে হয়েছে। লালপুর থেকে জেলা শহরের জেলরোড পর্যন্ত সিএনজিচালক ভাড়া চাইলেন ১০০ টাকা। যেখানে নিয়মিত ভাড়া ৫০ টাকা। কারণ জানতে চাওয়ায় চালক বললেন, সিএনজি পাম্পে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ। যারা দিচ্ছেন অতিরিক্ত মূল্যে কিনতে হয়েছে। এজন্য তারা ভাড়া বেশি নিচ্ছেন।’
আখাউড়ার মোহাম্মদ আরাফাত নামের এক যুবক জাগো নিউজকে বলেন, ‘আজ জেলা শহরে আমার ডাক্তারের কাছে সিরিয়াল দেওয়া ছিল। তাই আখাউড়া বাইপাস থেকে সিএনজিতে উঠে আসতে গেলে ভাড়া চাইলো ১০০ টাকা। অতিরিক্ত ভাড়ার কথা জিজ্ঞেস করলে চালক আমার সঙ্গে রাগ দেখালেন। পরে বললেন, পাম্পে গ্যাস দিচ্ছে না।’

মারুফ হোসেন নামের কসবাগামী এক যাত্রী বলেন, ‘আমি সিএনজিযোগে কসবা থেকে কুমিল্লায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করি। ভাড়া সবসময় ৮০ টাকা দিয়ে থাকি। কিন্তু আজ ভাড়া চান ১৫০ টাকা।’
ফারুক মিয়া নামের সিএনজিচালিত এক অটোরিকশা চালক বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ থাকবে না বলে আগেই মাইকিং করেছে। তাই গতকাল যেটুকু গ্যাস ঢুকিয়েছিলাম, তা দিয়ে ট্রিপ দিয়েছি। কিন্তু অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক কম ট্রিপ দিতে পেরেছি। একটু পরই গ্যাস শেষ হয়ে যাবে। গাড়ি দুদিন বন্ধ থাকবে। ভাড়া অতিরিক্ত না নিলে কীভাবে চলবে?’
‘পাম্পে গ্যাস আনতে গিয়ে শুনি বন্ধ। যাদের দিচ্ছে তাও অতিরিক্ত মূল্যে। এখন বেশি টাকা দিয়ে গ্যাস কিনে ভাড়াও তো বেশি নিতে হবে, তাই না!’, বলেন জালাল উদ্দিন নামের আরেক চালক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর জাগো নিউজকে বলেন, ‘যেখানে পাম্পে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, সেখানে কীভাবে গ্যাস গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করবে? গ্যাস বন্ধ থাকলে সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই। গ্যাস বন্ধের অজুহাতে তারা (চালক) পাম্পগুলোর ওপর দোষ চাপিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে।’
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/জিকেএস