কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসছে মৃত জেলিফিশ, কারণ জানতে নমুনা সংগ্রহ
কক্সবাজারে ভেসে আসছে বক্স প্রজাতির মৃত জেলিফিশ। গত কয়েকদিন ধরে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে আসা মৃত জেলিফিশ পড়ে আছে সাগর পাড়ে। এসব জলজ প্রাণীর মৃত্যুর কারণ জানতে উঠে পড়ে লেগেছেন গবেষকরা। নমুনা সংগ্রহ করে তারা গবেষণা করছেন। বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) সকালেও কক্সবাজার সমুদ্র পাড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় অসংখ্য মরা জেলিফিশ।
দরিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন জানান, কয়েকদিন ধরে সমুদ্র পাড়ে দেখা মিলছে মৃত জেলিফিশের। দরিয়ানগর থেকে হিমছডি পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে এসব জলজ প্রাণী। এগুলোর একেকটির ওজন ১২-১৫ কেজি।
তিনি বলেন, ‘সাগর পাড়ে একসঙ্গে এত মৃত জেলিফিশের আগে কখনো দেখিনি। এবারই প্রথম এমনটা হয়েছে।’

সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী আবু সাইদ মোহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘গভীর সাগরে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে গেলে কম লবণাক্ততার জায়গায় জেলেফিশ উপকূলে চলে আসতেই বালুতে আটকা পড়ে। তখন মরে যায়।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ ছিল। হঠাৎ করেই অনেক ট্রলার মাছ ধরতে গেছে। তাদের জালে আটকেও অনেক জেলিফিশ মারা গিয়ে থাকতে পারে। তবে মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাতে ভেসে আসা মরা জেলিফিশের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষণার পরই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তখন সমুদ্রদূষণ বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না তাও গবেষণায় উঠে আসবে।’
প্রাণঘাতী না হলেও সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা এসব জেলিফিশের সংস্পর্শে গেলে চুলকানিসহ নানা সমস্যা হতে পারে বলেও সতর্ক করে দেন এ বিজ্ঞানী।
কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামান বলেন, ‘এটা জেলিফিশ মরার কোনো সিজন নয়। হয়তো জেলিফিশ উপকূলের কাছাকাছি এসে জেলেদের জালে আটকা পড়ছে। পরে জেলেরা মাছগুলো ফেলে দেওয়ায় মরা মাছ সৈকতের বেলাভূমিতে আসতে শুরু করেছে। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অসংখ্য মরা জেলিফিশ বালুতে আটকে থাকতে দেখা গেছে। এসব জেলিফিশের মধ্যে কোনোটা আকারে ছোট, কোনোটা বড়। দেখতে অনেকটা অক্টোপাসের মতো। তবে এগুলো কী কারণে মারা যাচ্ছে এর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত নই।’
বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা কেন্দ্রের (বোরি) মহাপরিচালক সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার বলেন, ‘সাগরে জেলিফিশ প্রজাতির প্রাণীগুলো ‘সামুদ্রিক ভিমরুল’ হিসেবে পরিচিত। অত্যন্ত বিষাক্ত এসব জেলিফিশ সামুদ্রিক মাছের যম। ব্যাপক হারে মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করে এরা।’

তিনি আরও বলেন, সাগরে অর্ধশত প্রকারের জেলিফিশ রয়েছে। তারমধ্যে এসব ‘বক্স জেলিফিশ’ মাছের জন্য সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর। প্রচুর মাছ খেয়ে ফেলে এসব বক্স জেলিফিশ। বিষাক্ত হওয়ার কারণে জেলিফিশের সংস্পর্শে যাওয়া মাত্র যে কোনো মাছ মারা যায়।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, সায়মন বিচ ও দরিয়ানগর পয়েন্টসহ হিমছড়ি পর্যন্ত দীর্ঘ আট কিলোমিটারের অর্ধশত পয়েন্টে জোয়ারের পানির সঙ্গে অসংখ্য মরা জেলিফিশ ভেসে এসে আটকা পড়েছে। দুর্গন্ধের কারণে মরা এ জেলিফিশগুলো উৎসুক পর্যটকরা দেখতে পারছেন না। বাতাসের বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ দেখছেন। এভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলে গোটা সৈকতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, সৈকতের বালিয়াড়িতে মরা জেলিফিশ ছড়িয়ে রয়েছে। অনেক পর্যটক জেলিফিশ না চেনায় এগুলোর ওপর হেঁটে গোসলে নামছেন। আবার অনেকে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে জেলিফিশের সংস্পর্শে যাচ্ছেন। এতে অনেকের গা চুলকিয়ে ক্ষত হচ্ছে বলে জেনেছি। এজন্য মৃত জেলিফিশ সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সায়ীদ আলমগীর/এসআর/জেআইএম