ঘর নেই, বিধবা ভাতার কার্ডও জুটছে না নিঃসন্তান লাইলীর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৭:০৮ পিএম, ০৫ আগস্ট ২০২২

‘আমার স্বামী-সন্তান কেউ নেই। খেয়ে না খেয়ে দুঃখে-কষ্টে আছি। আজ পর্যন্ত চেয়ারম্যান-মেম্বার একটা বিধবা কার্ডের ব্যবস্থা করে দেয়নি। মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবন চলে। থাকার একটি ঘরও নেই। ভাতিজার টিনের ছাপরাতে রাত কাটে। শেষ বয়সে যদি একটা ঘরের ব্যবস্থা হতো, তাহলে ভিক্ষা করে হলেও সেই ঘরের নিচে আশ্রয় নিতাম।’

কথাগুলো বলেছিলেন কুড়িগ্রাম সদরের পৌরসভা এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের টাপু ভেলাকোপা গ্রামের মৃত আকমল মিয়ার স্ত্রী লাইলী বেওয়া (৫৩)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাইলী বেওয়ার স্বামী মারা গেছেন প্রায় ৩৫ বছর আগে। তার সংসার বলতে কিছুই নেই। নিঃসন্তান লাইলী বেওয়া বৃদ্ধ বয়সে প্রতিদিন ভোরবেলা পায়ে হেঁটে শহরে যান। এক মুদি ব্যবসায়ীর দোকানের সামনে ঝাড়ু দেন। এরপর বাড়ি বাড়ি ঝিয়ের কাজ করেন। কারো বাড়িতে কাজ পেলে সেদিন পেটে ভাত জোটে। আর যেদিন কাজ জোটে না সেদিন উপোস থাকতে হয় লাইলী বেওয়াকে।

jagonews24

অসহায় এ নারীর জায়গা-জমি বলতে কিছুই নেই। ভাতিজার দেওয়া ছাপরায় থাকেন। শেষ কবে নিজের চুলায় রান্না হয়েছে মনে নেই লাইলী বেওয়ার। প্রায় দিনই তাকে না খেয়ে থাকতে হয়।

জনপ্রতিনিধির দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পাচ্ছেন না সহায়তার কোনো কার্ড। টাকা দিতে না পারায় কার্ড হচ্ছে না বলে দাবি এ নারীর। আক্ষেপ করে লাইলী বেওয়া বলেন, ‘সবার মরণ হয়, আমার ক্যান হয় না।’

লাইলী বেওয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাত্র ১২ বছর বয়সে তার বিয়ে দেন গরিব বাবা-মা। বিয়ের সাত বছরের মাথায় স্বামীকে হারান। এরপর থেকে কষ্ট তার নিত্যসঙ্গী।

jagonews24

প্রতিবেশী সালাম মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিধবা লাইলী বেওয়ার দুঃখের শেষ নেই। স্বামী-সন্তান নেই। ভাতিজা একজন আছে, তবে সেও গরিব।ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করে। লাইলীর খোঁজখবর নেওয়ার মতো কেউ নেই। চেয়ারম্যান-মেম্বাররা যদি একটি বিধবা ভাতা কিংবা বয়স্ক ভাতা করে দিতেন তাহলে লাইলীর উপকার হতো।’

লাইলী বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাপুরে! আমার দুঃখের কপাল। স্বামী নাই, সন্তান নাই। কে আমার দুঃখ ঘুচাবে? একটা কার্ডের জন্য কতবার চেয়ারম্যান-মেম্বারকে বলেছি। কোনো কাজ হয় নাই। দুনিয়ায় টাকার খেলা। টাকা যদি দিতে পারতাম, তাহলে অনেক আগেই কার্ডের ব্যবস্থা হতো।’

এ বিষয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার টুংকু মিয়া বলেন, ‘বিধবা লাইলী বেগমকে আমি চিনি। গতবছর উনার বিধবা কার্ড হওয়ার কথা ছিল। সঙ্গত কারণে হয়নি। তবে এ বছরে হয়ে যাবে। তার বিধবা ভাতার জন্য অনলাইনে নাম সাজেস্ট করা হয়েছে। খুবই দ্রুত কার্ডের ব্যবস্থা হবে।’

jagonews24

কুড়িগ্রাম পৌরমেয়র কাজিউল ইসলাম বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লাইলী বেগমের বিধবা কার্ডটির ব্যবস্থা করা হবে।’

ঘরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের আবাসনে উনার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে তিনি যেতে চেয়েছিলেন না। এরপরও কোনো সুযোগ-সুবিধা থাকলে দেওয়া হবে।’

এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]