সংকট-ঝুঁকিতেই চলছে সোনারগাঁয়ের ১৬ কমিউনিটি ক্লিনিক

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৯:৫২ এএম, ০৭ আগস্ট ২০২২

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার বাসিন্দার জন্য ১০টি ইউনিয়নে ৩৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিকের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা সেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা, পরামর্শসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। তবে সংকট, অযত্ন ও সংস্কারের অভাবে ১৬টি ক্লিনিকই এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। ফলে সংকট ও ঝুঁকিতেই চলছে এসব ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা।

ক্লিনিকগুলো হলো- সাদীপুর ইউনিয়নের ভারগাঁও সিসি, নানাখী সিসি, জামপুর ইউনিয়নের মুন্দিরপুর সিসি, বুরমদী সিসি, বস্তল সিসি, সনমান্দি ইউনিয়নের চরভুলুয়া সিসি, কাফাইয়াকান্দি সিসি, সনমান্দি সিসি, মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাজিরগাঁ সিসি, বৈদেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী সিসি, দামোদরদী সিসি, পিরোজপুর ইউনিয়নের তাতুয়াকান্দা সিসি, দুধঘাটা সিসি, পিরোজপুর সিসি, জৈনপুর সিসি, শম্ভুপুরা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর সিসি।

jagonews24

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, বেশিরভাগ ক্লিনিকে নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল। কিছু ক্লিনিকে ওষুধের সংকট রয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই। নিয়মিত পানির সরবরাহ নেই। কোথাও আবার শৌচাগার নষ্ট। অধিকাংশ ভবনের দরজা-জানালা খুলে গেছে। ছাদে ফাটল ধরেছে। পলেস্তারা খসে পড়েছে। ঝুঁকি নিয়েই এসব ক্লিনিকে রোগীদের সেবা চলছে।

উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের কাফাইয়াকান্দা কমিউনিটি ক্লিনিকে নারী, শিশুসহ গড়ে প্রতিদিন ৪০-৫০ জন রোগী আসেন সেবা নিতে। কিন্তু বেহাল ভবনের কারণে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

jagonews24

সেবা নিতে আসা হালিমা আক্তার শেফালী নামে এক রোগী বলেন, ‘আমার এখান থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনেক দূরে হওয়ায় অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে এখান থেকে সেবা নিতে বাধ্য হই। তবে সবসময় ওষুধ পাই না এখানে। এটা যদি আধুনিক করা হয় তাহলে আমাদের ভোগান্তির অবসান হবে।’

এ বিষয়ে কাফাইয়াকান্দা কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ ক্লিনিকে ২০১১ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছি। দীর্ঘদিন ধরেই ভবনের অবস্থা খুব খারাপ। সামান্য বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এর ফলে অনেক চিকিৎসা সামগ্রী ও আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সোনারগাঁয়ে যে ৩৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে তার মধ্যে আমার এ ক্লিনিক বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছে। যে কোনো সময় এটি ধসে পড়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ না পাওয়ায় রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাতে বাধ্য হই।’

jagonews24

জামপুর ইউনিয়নের মুন্দিরপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি হালিমা খাতুন চম্পা জাগো নিউজকে বলেন, ‘ক্লিনিকটির সামনের জায়গাটি নিচু হওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। ফলে এ ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা রোগীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হন।’

এদিকে আধভাঙা ভবনে চলছে পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর ও দুধঘাটা কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম। একই অবস্থা সনমান্দি ইউনিয়নের চরভুলুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকেরও। ক্লিনিকের ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নেই পানি ও বিদ্যুৎ। টিউবওয়েল অকেজো থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট চরমে। এমন দুর্ভোগের মধ্যে সঠিকভাবে সেবা দিতে পারছেন না স্বাস্থ্যকর্মীরা।

jagonews24

এছাড়া হামছাদী, দামোদরদী, বুরুসদী কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নিরাপত্তাবেষ্টিত দেওয়াল না থাকায় যে কোনো সময় চিকিৎসাসামগ্রী চুরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সনমান্দি কমিউনিটি ক্লিনিকে দীর্ঘদিন ধরে বৈদ্যুতিক পাখাগুলো নষ্ট, নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাবরিনা হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘ক্লিনিকগুলো স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের অধীনে। আমাদের ডাক্তাররা ক্লিনিকগুলো পরিচালনা করলেও সংস্কারের দায়িত্ব স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পালন করে থাকে। যেসব কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সংস্কার দরকার তার একটি তালিকা আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দিয়েছি। এছাড়া হেলথ ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারাও তালিকা চেয়েছেন। তাদেরও তালিকা দিয়েছি। আশা করছি এ বছরের মধ্যেই সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সংস্কারের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শিগগির কাজ শুরু হবে।’

রাশেদুল ইসলাম রাজু/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।