খরায় মরছে শিমগাছ, চাষির মাথায় হাত
আগাম শিম চাষ করে লাভবান হতে চেয়েছিলেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের চাষিরা। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি। ভরা বর্ষা মৌসুমেরও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হচ্ছে না। পানির অভাবে বেশিরভাগ শিমগাছ মরে যাচ্ছে। অনেকেই মরা শিমগাছ উঠিয়ে নতুনভাবে আবারও শিমের চারা রোপণ করেছেন। খরায় শিমগাছ মরে যাওয়ায় লাভের বদলে তাদের লোকসান গুনতে হবে।
চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুলাডুলি ইউনিয়নে প্রায় ১০ বছর ধরে আগাম শিম চাষ শুরু হয়েছে। অটো ও রূপভান নামের দুই জাতের আগাম শিম এখানে চাষ করা হয়। এবার আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা বিপদে পড়েছেন। প্রচণ্ড খরায় শিমগাছের পাতা হলুদ, ছিদ্র ও বিবর্ণ হয়ে গেছে। পোকার আক্রমণে গাছ দুর্বল হয়ে মারা যাচ্ছে। ফলে নিরুপায় হয়ে মরা ও বিবর্ণ শিমগাছ উপড়ে ফেলে সেখানে নতুন করে বীজ ও চারা রোপণ করছেন চাষিরা।

মুলাডুলির বাঘহাছলা গ্রামের হুসেন আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আষাঢ় মাসের প্রথম সপ্তাহে শিমের চারা রোপণ করেছিলাম। প্রচণ্ড খরায় শ্রাবণের শুরুতেই শিমের গাছগুলো লালচে হয়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে। তিন বিঘা জমির মধ্যে প্রায় এক বিঘা জমির শিমগাছ খরায় মরে গেছে। এগুলো উঠিয়ে আবার নতুন করে লাগানো হচ্ছে।’
তিনি বলেন, আগাম শিম বেশি দামে বিক্রি করা যায় এমন আশায় অনেকেই আবাদ করেছিলেন। কিন্তু অসময়ে খরার কারণে সেচ দিতে না পারায় কৃষকদের ক্ষতি হয়ে গেলো। মরে যাওয়া শিম গাছ উঠিয়ে এখন যে চারা রোপণ করা হচ্ছে এগুলোর ফলন হবে কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে। তখন আর এ শিম বেশি দামে বিক্রি যাবে না।

একই গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, আগাম শিম ১০০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এতে কৃষকরা বেশ লাভবান হন। কিন্তু শিমগাছ মরে যাওয়ায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভবান হতে পারবেন না। তাই অতিরিক্ত টাকা খরচ করে যারা আগাম শিমের আবাদ করেছেন তাদের অনেকেই এবার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
শিম চাষ করেছেন শেখপাড়া গ্রামের চাষি শাহান আলী। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অটো শিমের আবাদ করেছি। এক বিঘা জমিতে বিট (টিবি) তৈরি, বীজ, কীটনাশকবাবদ প্রায় ১৫ হাজার টাকা প্রাথমিক পর্যায়ে খরচ হয়ে গেছে। অথচ খরায় দেড় মাস পর ক্ষেতের বেশিরভাগ শিমগাছ মরে গেছে। এবার আগাম শিম চাষে লাভের আশা খুব একটা করতে পারছি না।’

প্রচণ্ড খরায় আগাম শিমের আবাদে বেশ ক্ষতি হয়েছে বলে জানান মুলাডুলি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিউজ্জামান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার জাগো নিউজকে বলেন, শিমগাছের জন্য মাটিতে যে পরিমাণ রস থাকার প্রয়োজন অনাবৃষ্টির কারণে সেটি না থাকায় পোকা আক্রমণ করে। এতে পাতা বিবর্ণ হয়ে গাছ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। মরা গাছ উঠিয়ে কৃষকদের নতুন শিমের চারা লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এসআর/এএসএম