কক্সবাজারে ট্যুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে পর্যটককে মারধরের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৭:১১ পিএম, ১২ আগস্ট ২০২২

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে ‘মোটর সাইকেল চালানো’ এক পর্যটককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ট্যুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনার বিষয়ে নাজমুল হাসান নামের ওই পর্যটক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে মারের সত্যতা না পাওয়ায় অভিযোগ ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে।

নাজমুল হাসান কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালী থানার সুজানগর এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে নাজমুল হাসান নামের এক পর্যটক মোটরসাইকেল নিয়ে সৈকতের বালিয়াড়িতে নামেন। এসময় ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা বাঁধা দিলে ওই পর্যটকের সঙ্গে বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেন ওই পর্যটক।

অভিযোগে নাজমুল দাবি করেছেন, বুধবার মো. শান্ত নামের তার এক ভাগিনাকে নিয়ে কক্সবাজার আসেন। পরে হোটেল-মোটেল জোনের ‘ড্রিম গেস্ট’ নামের এক আবাসিক হোটেলে উঠেন তারা। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট ঘুরতে যান। এসময় জনৈক ফটোগ্রাফার তাদের জানায়, সৈকতে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ ও ঘুরাঘুরি করা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এরপর নাজমুল ও তার ভাগিনা মোটরসাইকেলসহ সৈকত এলাকা থেকে ফিরছিলেন। এসময় সেখানে দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তা নাজমুলের কাছ থেকে হেলমেট ও ফটোগ্রাফারের ক্যামেরা নিয়ে নেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার প্রেক্ষিতে নাজমুল ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও তাকে ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ৪-৫ টি আঘাত করেন।

তবে, ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে মারধরের সত্যতা মিলেনি। বরং পর্যটক শাকিল ও অভিযুক্ত পুলিশের এএসআই আমজাদ একে-অপর হাত মিলিয়ে বিদায় দিতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে ভুক্তভোগী পর্যটক নাজমুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, আমাদের কাছে কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দেয়নি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনও আমাদের কিছু জানায়নি। বৃহস্পতিবারের সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে তাকে (নাজমুলকে) আমাদের অফিসে আনা হয়। তিনি কাগজপত্র আনার জন্য ৮টা ৫ মিনিটে বেরিয়ে যান। ৮টা ৪৫ মিনিটে উনি কাগজ নিয়ে আসলে তার কাগজ চেক করে ৯টা ১৫ মিনিটে তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সায়ীদ আলমগীর/আরএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।