ক্যান্সারের চিকিৎসা: পল্লী চিকিৎসকের চেম্বার বন্ধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ১০:২৩ এএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২

মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনার পল্লী চিকিৎসক আলতাবুর রহমান বাদশা। এক বছর তদন্ত করে তা বন্ধ করে দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

বুধবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলেন, তার (আলতাবুর রহমান বাদশা) চিকিৎসা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান সিলগালা না করে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৫টায় চিকিৎসক আলতাবুর রহমান বাদশার বাড়িতে গড়ে তোলা চেম্বার ও গবেষণা কার্যালয় পরিদর্শন শেষে তা বন্ধ করে দেন লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায়। এ সময় সঙ্গে ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার রায় অজয়। এ সময় ভুল স্বীকার করে মুচলেকা দিয়ে কারাদণ্ড থেকে মুক্তি পান বাদশা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভুয়া চিকিৎসক আলতাবুর রহমান বাদশা ভুল চিকিৎসা দিয়ে অনেক মানুষের ক্ষতি করেছেন। এর আগে ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর দুপুরে উপজেলার কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদের পাশে বাদশার বাড়িতে গড়ে তোলা চেম্বার ও গবেষণা কার্যালয় পরিদর্শন করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপরই তার ওষুধসহ বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করেন তারা। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডাক্তার আব্দুল কাদের গনি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইনসপেক্টর তোফাজ্জল হোসেন ও ডাক্তার সাইফুল ইসলামকে নিয়ে তদন্ত কমিটি করে ওষুধসহ বিভিন্ন সামগ্রী ঢাকায় ল্যাবে পাঠানো হয়।

প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে তারা বলছেন, সম্পূর্ণ ভুল উপায়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন হেমিও চিকিৎসক বাদশা। এছাড়াও তার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজ চাইলে তিনি দিতে পারেননি। শুধু ২০০৯ সালের পল্লী চিকিৎসকের একটি কাগজ দিয়েছেন। ওই সময় তাকে ক্যান্সারের চিকিৎসা বন্ধ রাখতে বলা হলেও তিনি স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। এমনকি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চিকিৎসার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোগীদের মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের ভুল চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন তিনি। ক্যান্সারের চিকিৎসা করিয়ে রোগ থেকে মুক্তি পেতে অনেকে সর্বস্ব বিক্রি করে চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করেন। কিন্তু কিছুদিন পর রোগী মারা যান।

সম্প্রতি কাকিনা বাজারের ডক্টর সাহেদ আলী ক্যান্সারে মারা যান। তিনি পল্লী চিকিৎসক আলতাবুর রহমান বাদশার কাছে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

সাহেদ আলীর পরিবার জানায়, প্রায় ৩ মাস আগে পল্লী চিকিৎসক বাদশার কাছে চিকিৎসা নেওয়া হয়। কিছু দিন ভালো থাকলেও পরে ডক্টর সাহেদ আলীর অবস্থা খারাপের দিকে যায়। উপায় না পেয়ে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ২ মাস চিকিৎসার পর মারা যান তিনি।

কালীগঞ্জ উপজেলার ৮নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহির তাহু বলেন, আমি নিজেও জানতাম তিনি পল্লী চিকিৎসক। সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায়ের সঙ্গে গিয়ে জানতে পেরেছি তিনি ক্যান্সারের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। তাই প্রসাশন বন্ধ করে দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার রায় অজয় বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে তদন্ত করে বোঝা গেছে, তারা ভুল চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।

এ বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক বাদশা মিয়া সাংবাদিকের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আবারও চিকিৎসা সেবা চালু করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রবিউল হাসান/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।