বেলা ১১টার আগে খোলা হয় না ঈশ্বরদীর ভাড়ইমারী কমিউনিটি ক্লিনিক

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ০৫:০১ পিএম, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

কমিউনিটি ক্লিনিকের বন্ধ দরজার সামনে বসে সকাল সাড়ে ১০টায় মোবাইল ফোনে গেম খেলছিল একদল শিশু-কিশোর। ক্লিনিকে তখনও আসেননি কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) শাম্মী আক্তার সুমি। সেবাগ্রহীতাদেরও দেখা যায়নি। ক্লিনিকের আশপাশের বাসিন্দারা বলছেন, এ ক্লিনিক বেলা ১১টার পর খোলা হয়। তাই সেবাগ্রহীতারা ১১টার আগে কেউ আসেন না। কারণ তারা জানেন ১১টার আগে এসে এখানে সেবা পাওয়া যাবে না।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী কমিউনিটি ক্লিনিকে সরেজমিনে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অবস্থান করে ক্লিনিকটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

কমিউনিটি ক্লিনিকের দেওয়ালে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘শুক্রবার ব্যতীত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ক্লিনিক খোলা থাকে’। কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়, এ ক্লিনিক কোনোদিনও বেলা ১১টার আগে খোলা হয় না এবং দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করে স্থায়ীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি শাম্মী আক্তার সুমি প্রতিদিনই বেলা ১১টার পরে আসেন। দুপুর ১টার পরপরই আবার চলে যান। মাঝেমধ্যেই ক্লিনিক বন্ধ থাকে। সেবাগ্রহীতারা এসে ক্লিনিক বন্ধ দেখে ফিরে যান। রোগীরা পাঁচ টাকা ফি না দিলে ওষুধ দিতে চান না। এছাড়া সব রোগীকে সমানভাবে সেবা দেন না তিনি।

ভাড়ইমারী কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশের জমিতে সবজিক্ষেতে কাজ করছিলেন হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এ ক্লিনিক বেলা ১১টার আগে সচরাচর খোলা দেখা যায় না। এখন সাড়ে ১০টা বাজে। ক্লিনিক বন্ধ রয়েছে।

একই এলাকার ইউনুস আলী বলেন, আজ (শনিবার) বেলা ১১টা ৫ মিনিটে ক্লিনিক খুলতে দেখেছি।
প্রায় এমন সময়ই ক্লিনিক খোলা হয়।

মুন্নি আক্তার নামে এক গৃহবধূ বলেন, শুনেছি এ ক্লিনিক ৯টায় খোলার কথা। কিন্তু কখনো ৯টায় খুলতে দেখিনি। আবার ৩টায় বন্ধের নিয়ম থাকলেও ২টার পর কখনো খোলা দেখিনি।

সকাল ৯টা ১০ মিনিটে এ ক্লিনিক বন্ধ দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শফিকুল ইসলাম শামীমের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্লিনিক তো সকাল ৯টায় খোলার নিয়ম। কেন খোলেনি বিষয়টি আমি দেখছি।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে সিএইচসিপি শাম্মী আক্তার সুমির সঙ্গে দুপুর ১২টার দিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমার মা অসুস্থ সেজন্য আজ আসতে দেরি হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিনই নির্ধারিত সময়ে ক্লিনিক খোলা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

রোগীদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা করে ফি নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই টাকা দিয়ে আয়ার বেতন, বিদ্যুৎ বিলসহ আনুষঙ্গিক খরচ মেটানো হয়। এসব খরচ সরকারিভাবে দেওয়া হয় না। তাই রোগীদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা করে নেওয়া হয়। এছাড়া প্রসূতি ও অতিদরিদ্রদের কাছে থেকে কখনো কখনো টাকা নেওয়া হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।

ওষুধ দিতে অনিয়ম, নির্ধারিত সময়ে ক্লিনিকে না আসা এবং দ্রুত ক্লিনিক বন্ধ করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগ থাকবেই। সবার মন জয় করে চলা সম্ভব না। সরকার যে ওষুধ দেয় তা রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া সম্ভব না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এফ এম আসমা খানম জাগো নিউজকে বলেন, সবসময় তো সব ক্লিনিকের খোঁজ-খবর রাখা সম্ভব না। আমি যখন যাই অথবা প্রতিনিধি পাঠাই তখন তো খোলা পাওয়া যায়।

ওই ক্লিনিকের সিএইচসিপির দেরিতে ক্লিনিক খোলা বিষয়ে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি এখনই দেখছি।

এমআরআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।