অভিযুক্তরা খালাস, মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে হত্যা করলো কে?
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাত নারীকে (৫০) শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অভিযুক্ত দুই রিকশাচালককে খালাস দিয়েছেন আদালত। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ওই নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। অভিযুক্তরা যদি দোষী না হন, তাহলে ওই নারীকে হত্যা করলো কে? এমন প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।
সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।
মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৮ মে দুপুরে রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামের বক্স আলী বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর তার পরিচয় জানতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালায় পুলিশ। মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) শনাক্ত করতে পারলেও তার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ধরা পড়ে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই সময় রায়পুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে মামলা করেন। তাকেই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তকালে পুলিশ সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের রিকশাচালক মো. শাহজাহানকে (৬২) আটক করে। এ ঘটনায় শাহজাহানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ওই নারীকে গলাটিপে হত্যা করেন একই উপজেলার পশ্চিম নন্দনপুর গ্রামের রিকশাচালক মো. হানিফ (৬০)। তখন শাহজাহান ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছিলেন।
পরে ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর মো. হানিফ ও শাহজাহানকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বলেন, রায়ের সময় অভিযুক্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ফলে আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন।
এর আগে শাহজাহানের জবানবন্দি বরাত দিয়ে পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, অজ্ঞাত ওই নারী পাগল ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি পশ্চিম নন্দনপুর গ্রামের মারুফ হাজী বাড়িতে ঘোরাঘুরি করতেন। এতে বাড়ির পরিবেশ নষ্ট হতো। এতে একই বাড়ির মো. হানিফ অতিষ্ঠ হয়ে শাহজাহানের রিকশায় ওই নারীকে উঠিয়ে ঘটনাস্থল নিয়ে যায়। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে হানিফ মরদেহ ডোবায় ফেলে দেন। এতে শাহজাহানকে ১৫০ টাকা রিকশা ভাড়া দেন হানিফ। এর আগে ওই বাড়ির মানুষের কাছ থেকে হানিফ ওই নারীকে অন্যস্থানে দিয়ে আসার জন্য ২৫০ টাকা নেন।
কাজল কায়েস/আরএডি