উদ্বোধনের এক বছরেও চালু হয়নি মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

আসাদুজ্জামান মিরাজ আসাদুজ্জামান মিরাজ , উপজেলা প্রতিনিধি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ০৬:২৬ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

অডিও শুনুন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গত বছর আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দুটি একসঙ্গে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পরপরই আলীপুর কেন্দ্রটি চালু হলেও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি চালু হয়নি। ফলে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ও মৎস্য খাত-সংশ্লিষ্টরা।

তবে, মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি চালু না হওয়ার কারণ হিসাবে জেলে ও মৎস্য নেতাদের স্বদিচ্ছার অভাবকে দুষছেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)।

জানা যায়, ২০১২ সালে মহিপুর ও আলিপুরে দুটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিএফডিসি। তবে জমি অধিগ্রহণ করতেই তাদের সময় লাগে চার বছর। ২০১৬ সালে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করে সংস্থাটি। নির্মাণকাজ শেষে ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণি সম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম মহিপুর ও আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দুটি উদ্বোধন করেন।

kuakata

সরেজমিনে দেখা যায়, আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে পুরোদমে জেলে ও পাইকারদের হাঁক-ডাকে সরগরম থাকলেও নিরব, নিস্তব্ধ মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। কেন্দ্রের ওয়ার্কশন সেটে কয়েকজন জেলেকে জাল মেরামত করতে দেখা যায়। এছাড়া মাছ ট্রলার থেকে নামানোর জন্য উন্নত মানের পন্টুন ও গ্যাংওয়ে, এক হাজার স্কয়ার ফুটের ওয়ার্কশন সেট, মাছ প্যাকেজিংয়ের স্থান, আড়তদারের অফিস রুম, স্যানিটেশন ও পয়োনিষ্কাশনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, মাছ পরিবহনের জন্য তৈরি সাত হাজার বর্গফুটের ট্রাক স্ট্যান্ড সবকিছুই রয়েছে তালাবদ্ধ অবস্থায়।

মহিপুর মৎস্য বন্দরের জেলে বেল্লাল হোসেন জাগো নিউজকে জানান, উদ্বোধনের পর থেকে এটা পড়ে রয়েছে। মাঝে মধ্যে জেলেরা জাল মেরামত করে আর বাকি সময় কুকুর, ছাগলের দখলে থাকে। সরকার আমাদের সুবিধার জন্য এটা তৈরি করেছে কিন্তু চালু না হলে সুবিধা পাবো ক্যামনে? এটা যাতে দ্রুত চালু হয় সেই দাবি জানাই।

kuakata

মহিপুর মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ রাজা জাগো নিউজকে বলেন, সরকার যে অবতরণ কেন্দ্র করে দিয়েছে সেখানে যেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরিবেশ এখন তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, মহাসড়ক থেকে বিএফডিসি মার্কেট এক কিলোমিটারের দূরত্বে। কিন্তু এ রাস্তা দিয়ে পাশাপাশি দু’টি ট্রাক চলতে পারে না। আমরা ৮২ আড়তদার থাকলে জায়গা দিয়েছে ৪০ জনকে। এরকম প্রতিটি স্থানেই সংকট। তাই বন্দরের সার্বিক স্বার্থে আমরা সেখানে যেতে পারছি না।

kuakata

তিনি আরও বলেন, ২০০২-০৩ সালের একটি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে মার্কেটটি তৈরি করে বিএফডিসি। কিন্তু বর্তমানে জেলে ও আড়তদার বেড়েছে। বিএফডিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কয়েকবার বৈঠক করে সমস্যা তুলে ধরেছি। আশা করছি সমস্যা সমাধানে তারা দ্রুত কাজ করবে।

মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক শাকিল আহমেদ জাগো নিউজকে জানান, মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র উদ্বোধন হয়েছে কিন্তু অপারেশনে যেতে পারেনি। এজন্য বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ মৎস্য বন্দর নেতাদের সঙ্গে বারবার বৈঠক করেছে। তবে নেতাদের স্বদিচ্ছার অভাব রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই অপারেশনে যেতে পারবো।

এএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।