যুবদলকর্মী সাওনের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:৪৩ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২
সাওনের মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারি

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তারপুর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে যুবদলকর্মী শহিদুল ইসলাম সাওনের (২৬) মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে পরিবেশ।

তার মরদেহ দাফনে শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় মুরমা জামে মসজিদ সংলগ্ন সামাজিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হয়েছে। তবে সাওনের মৃত্যুর সাড়ে ১৯ ঘণ্টা পরও (বিকেল ৪টা পর্যন্ত) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ স্বজনরা বুঝে পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঢামেক হাসপাতালে থাকা সাওনের ছোটভাই সোহান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সকাল থেকে ভাইয়ের মরদেহ দিবে দিবে বলছে। এখনো পোস্টমর্টেমের কাজই শেষ হয়নি। মরদেহ কখন দিবে বুঝতে পারছি না।’

শুক্রবার দুপুরে মিরকাদিম পৌরসভার মুরমা এলাকায় সাওনের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, জ্বলেনি চুলা, রান্না হয়নি কোনো খাবার। মরদেহের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন মা, স্ত্রী, দাদিসহ স্বজনরা। দরিদ্র পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তারা। দাবি জানিয়েছে বিচারের।

দাদি হালিমা বেগম বলেন, ‘আমার নাতি অটোরিকশায় চালাইতো। মার কাছে কইলো মা ভাত দেও, খেয়ে গেলো। কিছুক্ষণ পরই খবর আসে আমার নাতির গুল্লি লাগছে। কী জন্য আমরা নাতি মরলো, আমরা বিচার চাই।’

বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন সাওনের স্ত্রী সাদিয়া। তিনি বলেন, ‘স্বামীকে যারা মেরেছে আমি তাদের বিচার চাই। আমরা একটা সন্তান এখন কী হবে ওর।’

সাওনের সৎ মা লিপি বেগম বলেন, ‘আমার কাছে ভাত চাইলো, ভাত খেলো তারপর বের হয়ে গেলো। এই যে গেলো আর আইলো না। কালকা রাতে শুনি মারা গেছে। আমার পোলারে কেন মারলো।’

পরিবার সূত্রে জানা যায়, চারভাই এক বোনের মধ্যে সাওন সবার বড়। সৎ মা লিপি বেগমের কাছে বড় হয়েছে তিনি। গতবছর বিয়ে করেন সাদিয়াকে। সে ঘরে রয়েছে আটমাসের সাহাত নামের এক সন্তান। রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি পরিবারের লোকজন জানতো না। তার প্রতিদিনের উপার্জনেই চলতো সংসার।

বুধবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মুক্তারপুরে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের দফায় দফা সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় আটটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।

সংঘর্ষে পুলিশের এএসপি, সদর থানার ওসিসহ ১০পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহের সময় আহত হন তিন সাংবাদিকও। সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত অবস্থায় যুবদলকর্মী সাওন ও জাহাঙ্গীর নামের আরেকজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাওনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ও শ্রমিক লীগের দুই মামলায় ৩৬৫জনের নাম উল্লেখ্যসহ ১ হাজার ৩৬৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আরাফাত রায়হান সাকিব/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।