আশ্রয়ণের ঘর দেওয়ার প্রলোভনে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শেরপুর
প্রকাশিত: ০৯:১৭ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

শেরপুরের শ্রীবরদীতে আশ্রয়ণের ঘর দেওয়ার প্রলোভনে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার (নায়েব) হরমুজ আলীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এসময় স্থানীয়রা হরমুজ আলীকে আটকের চেষ্টা করলে মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান তিনি। অভিযুক্ত শেরপুর শহরের কালিগঞ্জ এলাকার মৃত আমজাদ আলীর ছেলে এবং শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ভূমি অফিসে তহসিলদার হিসেবে কর্মরত।

ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। ম্যালা (অনেক) মানুষের কাছে গেছি, এডা (একটি) ঘরের জন্য, কিন্তু কেউ দেয় নাই। পরে মাইনষের (মানুষের) কাছে হুইনি (শুনে) আমগোর নায়েবের (তহশিলদার) কাছে গেছিলাম, অই বেডা ঘর দেওয়ার জন্য এক লাখ ট্যাহা (টাকা) চায়, কিন্তু আমি গরিব মানুষ, এত ট্যাহা কই পামু। পরে খুব কষ্ট কইরি (করে) ৫০ হাজার ট্যাহা নায়েব বেডার কাছে দেই। তহন (তখন) আরও ৫০ হাজার ট্যাহা চায়। এরপর আমার মোবাইল নম্বর নিয়ে রাত-বিরাতে মাঝেমধ্যেই ফোন করে। আইজকে (২৩ সেপ্টেম্বর) রাইতে ফোন করে আমার ঘরে আহে (আসে), আইয়া আমারে জোর কইরি (করে) ধইরেই (ধরে) ইজ্জত নষ্ট করে। পরে আমি আব্বা-আম্মারে ডাক দিলে তারা অই ঘর থনে (থেকে) আহে (আসে)। এর মধ্যেই নায়েব বেডা দৌড় মাইরা যাইগা। আর আমার ঘরের মধ্যে তার জুতা, কলম রাইখি যাইগা।’

ওই গৃহবধূর বাবা বলেন, আমি শব্দ শুনে ঘর থনে (থেকে) বাড়ায় (বের হই)। এসময় নায়েব আমারে ঘুসি মাইরি মোটরসাইকেল রাইখি টিনের বেড়া ভাংগি (ভেঙে) পালায় যায়গা। আমি এর বিচার চাই।’

স্থানীয় কৃষক সামেদ আলী বলেন, ‘আমি বাজার থেকে এইদিক আসতেছিলাম। ম্যালা (অনেক) মাইনষের হইচই শুইনে এইদিকে আইছি। নায়েব বেডা আমার সামান দিয়ে যাইতেছিল। মাইনষে আমারে ধরবার কইলে আমি নায়েবরে জাপটাইয়া ধরি। পরে আমারে চটকান মাইরে নায়েব পলাইয়া গেছে। এইনে আইয়া হুনি ওই ঘরে ঢুকে ওই নায়েব ইজ্জত নষ্ট করছে।’

এ বিষয়ে খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দুলাল মিয়া বলেন, ভুক্তভোগীর কাছে যেসব কথাবার্তা শুনেছি এবং তিনি যেসব কল রেকর্ড শুনিয়েছেন তাতে ঘটনাটি সত্য বলে মনে হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘর দিতে কোনো টাকা-পয়সা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কেউ যদি প্রধানমন্ত্রীর ঘর দেওয়ার কথা বলে টাকা-পয়সা নেয়, তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ভুক্তভোগীর বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তারা আসেনি। পরে আরও দুইবার পুলিশ পাঠানো হয়, তারা তবুও থানায় আসেনি। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ পাঠিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তারা যদি অভিযোগ দেন অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইমরান হাসান রাব্বী/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।