স্নাতকের ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থীর শ্রুতি লেখক!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৮:০৭ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর শ্রুতি লেখক হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন বরিশাল বিএম কলেজের স্নাতক প্রথমবর্ষের ছাত্রী মারুফা আক্তার। দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বিষয়টি ধরা পড়লে ওই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং দুই বছরের জন্য পরীক্ষার অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া পরিচয় গোপন করে শ্রুতি লেখক হওয়ায় মারুফা আক্তারকে অর্থদণ্ড এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রত্যয়ন করায় দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব সালাউদ্দিন সৈকতকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দশমিনা মডেল মাধ্যমিক সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, পরীক্ষার নীতিমালা অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষার্থীর শ্রুতি লেখকের প্রয়োজন হলে সেটা অবশ্যই শ্রুতি লেখক সর্বোচ্চ অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত হতে পারবে। কিন্তু ওই পরীক্ষার্থীর শ্রুতি লেখক হিসেবে বোর্ড থেকে যে অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে তাতে মারুফা আক্তারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মারুফাকে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী দাবি করা হয়েছে। যেখানে তার রোল নম্বর ২১৫ বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে ওই নামে এবং রোলে কোনো ছাত্রী নেই।

তিনি বলেন, মারুফা আক্তার মূলত ২০২২ সালে আলীপুর কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে বরিশাল বিএম কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতক প্রথমবর্ষের ছাত্রী। কিন্তু তিনি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী পরিচয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

ইউএনও আরও বলেন, অধিকতর পর্যালোচনায় দেখা যায়, দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাউদ্দিন সৈকত, তিনি একইসঙ্গে কেন্দ্র সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রুতি লেখক মারুফা আক্তারকে তিনি তার বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী হিসেবে মিথ্যা প্রত্যয়ন দিয়েছেন। মিথ্যা তথ্য এবং জাল জালিয়াতির অভিযোগে কেন্দ্র সচিব সালাউদ্দিন সৈকতকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগে সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ওই পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র সচিব বহিষ্কার করেন এবং দুই বছরের জন্য পরীক্ষার অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করা হয়। সেইসঙ্গে শ্রুতি লেখক মারুফা আক্তার দাবি করেন, তাকে ব্ল্যাকমেইল এবং ভয় দেখিয়ে এই কাজে বাধ্য করা হয়। এ কারণে মারুফা আক্তারকেও ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড করা হয়।

আব্দুস সালাম আরিফ/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।