কদর কমেছে বেদে ডুবুরিদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

এক সময় ডুগডুগি বাজিয়ে হারানো স্বর্ণালঙ্কার খোঁজার জন্য গ্রামে ছুটে বেড়াতেন বেদে ডুবুরিরা। ত্রিকোণাকার একটি নিড়ানি দিয়ে গভীর থেকে আবর্জনার সঙ্গে তুলে আনতেন হারানো মূল্যবান সম্পদ। আগের মতো এখন আর ডাক পড়ে না তাদের।

স্থানীয় ও বেদে ডুবুরিরা জানান, এক সময় গ্রামের পুকুরে নারীদের গোসল, রান্না-বান্নার বিভিন্ন উপকরণ ধোয়ার করতে হতো। ফলে সহজে তাদের পরিহিত স্বর্ণালঙ্কার সেখানে হারিয়ে ফেলতেন। সেই অলঙ্কার খোঁজার জন্য বেদে ডুবুরিদের ডাকা হতো। তারা একটি নিড়ানি দিয়ে হারিয়ে যাওয়া সেসব জিনিসপত্র খুঁজে বের করতেন। বিনিময়ে তাদের পারিশ্রমিক দেওয়া হতো। এখন আর তাদের দেখা যায় না।

jagonews24

সম্প্রতি ফরিদপুরে শেখ ফরিদ হোসেন, মো. শাহিন ও আলাউদ্দিন শেখ নামের কয়েকজন বেদে ডুবুরিকে স্বর্ণালঙ্কার খোঁজার সরঞ্জাম নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। গ্রামে গ্রামে ঘুরে তারা হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান জিনিসপত্র উদ্ধার করেন।

সদর উপজেলার কৃষ্ণনগরে মো. শাহিন নামের এক ডুবুরি বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। বাকি জীবনটাও মনে হয় এ পেশার মধ্যে দিয়ে কাটিয়ে দিতে হবে। সাইকেলে চড়ে গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে বেড়িয়ে এ কাজ করি। আয়-রোজগারও কমেছে।

শেখ ফরিদ হোসেন নামের আরেক ডুবুরি বলেন, এ পেশায় খুবই কষ্টে জীবন যাপন করতে হয়। গ্রামে গ্রামে ঘুরে কারও মূল্যবান বস্তু পানি থেকে খুঁজে দেই। বিনিময়ে সামান্য পারিশ্রমিক পাই। প্রতিদিন কাজ হয় না। দুদিন আগে একটি উদ্ধার কাজ করে ৫০০ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছি। গত দুদিন ধরে কোনো কাজ পাইনি।

ডুবুরি আলাউদ্দীন শেখ বলেন, বাপ-দাদার পেশা ছিল এটি। সারা মাসে দুই একটা কাজ মিলে না। প্রতিদিন স্বেচ্ছায় বিভিন্ন গ্রামে অলঙ্কার খুঁজে দেওয়ার জন্য বের হই। কিন্তু এখন আর কেউ আমাদের ডাকে না।

jagonews24

মধুখালী উপজেলার বামুন্দী গ্রামের ভরত চন্দ রায় জাগো নিউজকে বলেন, ২০-৩০ বছর আগেও গ্রামের নারীরা পুকুরে গোসল করতেন। সে সময় অনেকেরই স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র পুকুরের পানিতে পড়ে যেত। হারিয়ে যাওয়া জিনিস খুঁজে বের করতে ডুবুরিদের ডাকা হতো। এখন গ্রামের প্রতিটি ঘরে টিউবওয়েল। আগের মতো মানুষ পুকুরে গোসল করে না। ফলে ডুবুরিদেরও প্রয়োজন হয় না।

আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহ্ মো. জাহাঙ্গীর জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের মাঝ থেকে অনেক কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে পানি থেকে অলঙ্কার খুঁজে বের করার দৃশ্যটিও। এ পেশায় মানুষের সংখ্যা কমছে। যারা এখনো কোনো মতে টিকে আছে তাদের সহযোগিতা করা দরকার।

এন কে বি নয়ন/আরএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।