ফরিদপুরে স্বেচ্ছাসেবকদলের কর্মীসভায় যুবলীগের হামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৮:২৬ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

ফরিদপুরে স্বেচ্ছাসেবকদলের কর্মীসভায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩০ জনের মতো আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় পণ্ড হয়ে যায় কর্মীসভা। যুবলীগের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল হলে বুধবার জেলা ও শহর স্বেচ্ছাসেবকদলের কর্মীসভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী।

jagonews24

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভা শুরুর আগেই সেখানে প্রথমে লাঠিসোটা নিয়ে একদল যুবক হামলার চেষ্টা করেন। এসময় তাদের প্রতিহত করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা চলে যান। এরপর অতিথিদের মঞ্চে বসিয়ে সভা শুরুর মুহূর্তে ধারালো অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে আবারও সেখানে হামলা করা হয়।
এসময় এস এম জিলানীসহ স্বেচ্ছাসেবকদলের বিভাগীয় নেতা হাফিজুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরিজসহ স্বেচ্ছাসেবকদল, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাস্থলে উপস্থিত নেতারা জানান, অম্বিকা হলের প্রধান দরজা বন্ধ করে হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন তারা। তবে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান মিঠু সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা সরিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাদের সভাস্থল থেকে চলে যেতে বলেন। এরপরই অতর্কিত হামলা করা হয়। এতে ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শুকদেব রায়, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রেজা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়ার হোসেন জুয়েল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হোসন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পারভেজ, নাট্য সম্পাদক রাহিমুল ইসলাম রাহিমসহ অন্তত ৩০ নেতাকর্মী আহত হন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলাকারীরা সভাস্থলের চেয়ার ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

jagonews24

এদিকে, এ ঘটনার পর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক টুলুর বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এ হামলার জন্য যুবলীগকে দায়ী করে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। তারা বলেন, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান মিঠুর নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে এ হামলা করে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল জাগো নিউজকে বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীসভা চলছিল অম্বিকা মেমোরিয়াল হলের ভেতরে। শুনেছি ওই সভা চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে সমাবেশটি পণ্ড হয়ে যায়। তিনি বলেন, হামলার আগে ও হামলার সময় ওই হলরুমের আশপাশে কোনো পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল না। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক বলেও জানান তিনি।

ফরিদপুর পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান বলেন, অম্বিকা হলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভা চলছিল। জেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা ওখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন উপলক্ষে সমবেত হয়েছিল। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও মারামারি হয়।

jagonews24

এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান মিঠু জাগো নিউজকে বলেন, দলীয় কোনো কর্মসূচি থাকলে যুবলীগের নেতাকর্মীরা অম্বিকা হলের সামনে জড়ো হয়। পরে মিছিল করে অনুষ্ঠানস্থলে যায়। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুবলীগকর্মীরা সেখানে সমবেত হয়। তবে আমরা জানতাম না সেখানে স্বেচ্ছাসেবকদলের সভা চলছে। দুইপক্ষের মধ্যে সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছে। তবে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও বলেন, এক কথায় যুবলীগ কোনো হামলার সঙ্গে জড়িত নয়। তারা হয়তো দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।

এন কে বি নয়ন/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।