পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি

বাবার লাশের আশায় করতোয়া পাড়ে দিন কাটছে তপনের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ০৩:৩৬ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২

 

পঞ্চগড়ে নৌকাডুবির ঘটনার ৬দিন অতিবাহিত হলেও খোঁজ মেলেনি ষাটোর্ধ সরেন্দ্র নাথ বর্মণের। বাবার মরদেহ খুঁজে পেতে করতোয়ার পাড়ে রাত-দিন পার করছেন তার ছেলে তপন চন্দ্র বর্মণ। কোথায় কোনো মরদেহে খবর পেলে ছুটে যান সেখানে। কিন্তু বাবার খোঁজ মিলে না।

তপন বলেন, অনেক মানুষের প্রাণ গেলো, মরদেহ পাওয়া গেল। আমার আত্মীয়-স্বজনসহ আমার পরিবারের মানুষ নিখোঁজ ছিল। এক এক করে পাঁচজনের মরদেহ পেলাম। এখন পর্যন্ত আমার বাবাকেই পেলাম না। ৬ দিন ভোরে উঠে যেখানেই মরদেহ উদ্ধারের খোঁজ পাচ্ছি। সেখানে দেখি আমার বাবা নাই। পঞ্চগড় থেকে দিনাজপুরের খানসামা পর্যন্ত নদী এলাকায় খোঁজ করেছি। কিন্তু আমার বাবাকে কোথাও পাইনি।

তিনি বলেন, বাবাকে জীবিত পাওয়া আর আশা নেই। ছয়দিন পর সঠিকভাবে মরদেহ পাওয়ারও আশা নাই। কিন্তু আমি যে তার ছেলে। বাবার কোনো কিছু পেলেই আমরা সৎকার করবো।

Panchagarh-(1)

তপনের বাবা সরেন্দ্র নাথ বর্মণসহ এখনও তিনজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ বাকি দুজন হলেন- পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ শালডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিডুবা শিকারপুর গ্রামের মদনের ছেলে ভূপেন (৪০) ও একই উপজেলার ঘাটিয়ার পাড়া গ্রামের ধীরেন্দ্র নাথের শিশুকন্যা জয়া রানী (৪)।

এদিকে দুর্ঘটনার ছয়দিনে উদ্ধার কাজ অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। শুক্রবারও সকাল সাড়ে ৫টা থেকে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ১২ ইউনিট এবং ১২ জনের ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ করছেন। তবে কোনো মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি।

Panchagarh-(1)

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক শেখ মো. মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ৭০ জন উদ্ধারকর্মী পঞ্চগড় থেকে দিনাজপুরের খানসামা পর্যন্ত করতোয়া নদী বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার কাজ করছে। একজন নিখোঁজ থাকলেও উদ্ধার কাজ চলবে।

এর আগে রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাট এলাকায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বজনদের দেওয়া তালিকা অনুসারে এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সফিকুল আলম/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।