‘বয়স ১০০, আর কত হলে ভাতা পামু?’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:২৩ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০২২

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের মৃত আজিজল ভূঁইয়ার ছেলে আব্দুর রহিম। শরীরে শক্তি থাকাকালীন দিনমজুরি করে সংসার চালিয়েছেন শতবর্ষী এ বৃদ্ধ। এখন দু’চোখে ঝাঁপসা দেখেন। তাই দিনমজুরির কাজও করতে পারেন না। স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন বাবার রেখে যাওয়া ঝুপড়িতে।

সন্তানরাও খোঁজ নেন না বৃদ্ধ বাবার। প্রতিবেশীর সহযোগিতায় কোনোরকমে খেয়ে-পরে বেঁচে আছেন আব্দুর রহিম। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও এখনো বয়স্ক ভাতা পাননি এ বৃদ্ধ।

আব্দুর রহিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘১০০ বছরের মতো বয়স হয়েছে। এহন (এখন) পর্যন্ত সরকারি কোনো ভাতা পাইনি। আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতা পামু (পাবো)? আর কয়দিন পরে চলে যামু (যাবো) কবরে। আমি একটা চালের নাম আর একটা ভাতার জন্য চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ অনেকের কাছে গিয়েছি। তারা দেবে বলে ঘুরান। তাই সরকারের কাছে দাবি, মৃত্যুর আগে যেন আমাকে কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। সরকারি কোনো সহায়তা পেলে হয়তো বাকি যে কদিন বেঁচে আছি ততদিন একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারবো।’

এ বিষয়ে জানতে হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েতুল আলমের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলী আশরাফ বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। দু-একদিনের মধ্যে বৃদ্ধের বাড়িতে গিয়ে তিনি খোঁজ নেবেন।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ১০০ বছরেও বয়স্ক ভাতার কার্ড না পাওয়া সত্যিই দুঃখজনক। আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো।

এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।