শিকারির টোপ পোষা ঘুঘু!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৮:৫০ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০২২

পথে যেতে যেতে চোখে পড়লো কাঁধে ছোট একটি পোটলা জাতীয় কিছু নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। কাছে গিয়ে দেখা যায়, খড়ে মোড়ানো জিনিসটি আসলে পাখি আটকে রাখার খাঁচা। আর ওই খাঁচার ভেতর একটি ঘুঘু পাখি। খাঁচার সামনের দিকে বাঁশ ও জাল দিয়ে তৈরি পাখি ধরার ফাঁদ।

জানা যায়, ওই খাঁচায় পোষা ঘুঘু দিয়ে বুনো ঘুঘু শিকারে যাচ্ছেন সেই ব্যক্তি। রাস্তার পাশে গিয়ে তার সঙ্গে আলাপ জমানোর পর জানা গেলো- পাখি শিকারি ব্যক্তির নাম আলকাছ মিয়া। সোমবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১ টার দিকে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার সাগরদিঘীর উত্তর পাড়ে দেখা হয় তার সঙ্গে।

প্রথমে পাশ কেটে যেতে চাইলেও একপর্যায়ে কথা বলেন আলকাছ। জানালেন, শখের বশে একটি ঘুঘু পোষেন তিনি। তার পাখিটি এখন বড় হয়েছে। তাই এই পাখিটিকে কাজে লাগিয়ে বনের পাখি শিকার করেন তিনি।

আলকাছ মিয়া রাজনগর উপজেলার সাহেবপুর গ্রামের বাসিন্দা। বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। তিনি জাগো নিউজকে জানান, কয়েকদিন ধরে কোনো কাজ নেই। তাই এই সুযোগে তিনি বুনো ঘুঘু শিকার করতে বেরিয়েছেন। সাগরদিঘীর উত্তর পাড়ের বিলে পাখি শিকারে যাবেন। পোষা ঘুঘুকে টোপ বানিয়ে বুনো ঘুঘু শিকার করবেন। দিনে চার থেকে পাঁচটি ঘুঘু ধরেন তিনি।

পাখি বিক্রি করে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পান। তা দিয়েই কোনোরকমে তার সংসার চলে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কাজ না থাকলে সংসার চলে না বলেও জানান আলকাছ।

ওই এলাকার কামাল মিয়া জানান, আলকাছ আসলেই একজন দিনমজুর। তিনি খুবই দরিদ্র। তাকে কাজ দিলে অথবা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করলে তিনি এমন কাজ করবেন না।

আলকাছ মিয়াকে জানানো হয়, এভাবে পাখি পোষা, পাখি শিকার এবং পাখির মাংস খাওয়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে নিষিদ্ধ। পাখি ক্ষতিকর পোকা-মাকড় খেয়ে শস্যকে সুরক্ষা দেয়। মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে সুরক্ষিত করে। পাখি কমে যাওয়ায় শস্যে পোকামাকড়, কীটপতঙ্গের উপদ্রব বেড়েছে। পোকা দমনে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে। আর কীটনাশক নানাভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। প্রকৃতিতে পাখির অবাধ বিচরণ থাকলে এত পোকামাকড় বাড়তো না। পরিবেশ-প্রকৃতির ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানুষের জীবনে নানারকম দুর্যোগ বাড়ছে। এছাড়া পাখি একটি মুক্ত প্রাণী। তার সন্তান বা তাকে যদি এভাবে কেউ খাঁচায় আটকে রাখতো, তাহলে কেমন লাগতো?

এসব বলার পরে আলকাছ মিয়া খুব সহজ-সরলভাবেই বলেন, তিনি একজন দিনমজুর। এত কিছু জানেন না, বোঝেনও না। কেউ যদি কাজকর্ম দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তা হলে বনের পাখি বনে ছেড়ে দেবেন। আর কখনো এমন কাজ করবেন না।

আব্দুল আজিজ/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।