জেলা পরিষদ নির্বাচন

ভোট দিতে পারেননি মধুপুরের ৭৩ জনপ্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৪:৫৮ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০২২

জেলা পরিষদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ আসনের ছয়টি ইউনিয়নের ৭৩ জনপ্রতিনিধি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এ নিয়ে ওই আসনের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও ভোটাধিকার না পাওয়া জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকা করার পর মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি, অরণখোলা, কুড়াগাছা, মহিষমারা, আউশনারা ও ফুলবাগচালা ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই ছয় ইউপির জনপ্রতিনিধিরা ভোটাধিকার পাননি। ওই ছয় ইউপির শেষ নির্বাচনে যেসব জনপ্রতিনিধি পুনর্নিবাচিত হয়েছেন কেবল তারাই ভোটাধিকার পেয়েছেন।

শোলাকুড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আইন উদ্দিন খান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রণজিত নকরেক, সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য তিরলা চিরান, কুড়াগাছা ইউনিয়নের জোবেদা বেগম জানান, তারা সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েও জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটাধিকার পাননি। তারা মনে করেন, তাদের ভোটাধিকার না দেওয়ার প্রভাব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ওপর পড়েছে। তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে টাঙ্গাইল-১ আসনের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ফলাফল ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী-গোপালপুর) আসনের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ফাতেমাতুজ জোহরা (দোয়াত কলম প্রতীক) জানান, মধুপুর উপজেলার ১৫৯ জনের ভোটার তালিকা তাকে নির্বাচন কমিশন থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী তিনি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনাসহ প্রচারণা চালিয়েছেন। এরমধ্যে একজন মৃত্যুবরণ করেছেন, আরও একজন অসুস্থ থাকায় ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচনের সময় দেখা যায়- মধুপুরের ৮৪ জনপ্রতিনিধি ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদের ক্ষেত্রে ‘প্রযোজ্য নয়’ বলে ভোটার তালিকায় চিহ্নিত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ আসনের সাধারণ সদস্য পদে খন্দকার শফি উদ্দিন মনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে কেবল সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন- ফাতেমাতুজ জোহরা (দোয়াত কলম), মাহমুদা খাতুন (হরিণ) ও মোছা. আছমা খাতুন (ফুটবল)।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান বলেন, ভোটার তালিকা করার সময় ওই ছয় ইউনিয়নের নির্বাচন হয়নি। সেজন্য নির্বাচনের পরে যেসব জনপ্রতিনিধিরা পুনর্নিবাচিত হয়েছেন কেবল তারাই ভোটার হতে পেরেছেন। ওইসব ইউনিয়নে যারা নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন তারা ভোটার তালিকাভুক্ত না হওয়ায় ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আইন মেনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাছাড়া ওই ছয় ইউনিয়নের বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আগে থেকেই জানানো হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল-১ আসনের সাধারণ সদস্য পদের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। পরিষদের ১১টি সাধারণ সদস্য পদের বিপরীতে ৪০ ও চারটি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আরিফ উর রহমান টগর/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।