ভোটারের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ফেরত পেয়েছেন পরাজিত সেই প্রার্থী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৯:৫২ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২২
পরাজিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাসাইলের পরাজিত সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সংগ্রামের বিতরণ করা টাকা ফেরত দিচ্ছেন ভোটাররা। বুধবার (১৯ অক্টোবর) নিজ উদ্যোগে টাকা ফেরত দিতে শুরু করেন ভোটাররা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের ১১ নম্বর ওয়ার্ড (বাসাইল) সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ভোটের আগে উপজেলার ফুলকি ইউপির আটজন, হাবলা ইউপির পাঁচজন, পৌরসভার পাঁচজন, সদর ইউপির ১১ জন, কাউলজানী ইউপির ৯ জন, কাঞ্চনপুর ইউপির পাঁচজন ও কাশিল ইউপির সাতজনকে টাকা দেন। এদের প্রত্যেক ভোটারকে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে সর্বমোট ১০ লাখ টাকা বিতরণ করেন।

মঙ্গলবার সকালে বিতরণকৃত টাকা ফেরত চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন রফিকুল। মুহূর্তে স্থানীয়দের মধ্যে তা ভাইরাল হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্ট্যাটাসের তথ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই পরাজিত ওই প্রার্থীর টাকা গ্রহণকারী ভোটাররা তাদের নাম প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করতে থাকেন।

তবে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হওয়ার পর বুধবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত হাবলা, সদর, কাঞ্চনপুর, কাউলজানী ও ফুলকি ইউপির সাতজন ভোটার দুই লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। আগামী দুদিনের মধ্যে সব ভোটাররা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ভোটের আগে কেন টাকা বিতরণ করেছেন জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটাররাই দেখা করার কথা বলে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা দাবি করে আসছিলেন। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার লোভে ভোটারদের টাকা দিয়েছিলাম। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হওয়ার পরপরই এখন সবাই টাকা ফেরত দিচ্ছেন।’

এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. উমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভোট কেনা ও বেচা জঘন্য অপরাধ। এটা অন্যের অধিকার টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া। একজন মানুষের মানবিক সত্তাকে হরণ করার শামিল। এক সময় যারা ভোট কিনতেন বা বিক্রি করতেন তারা এটা নিয়ে লজ্জাবোধ করতো। এখন ওই মূল্যবোধগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় দিন দিন ভোট কেনা-বেচার মতো অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে।

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ নম্বর ওয়ার্ড বাসাইলে মোট ভোটার ছিলেন ৯৪ জন। পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিন প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ওই সদস্য পদে নাছির খান ৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, নিকটতম প্রার্থী মোহাম্মদ হোসাইন খান সবুজ পেয়েছেন ২১ ভোট, মিজানুর রহমান খান পেয়েছেন ১১ ভোট, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সংগ্রাম পেয়েছেন ৭ ভোট ও আতিকুর রহমান কোনো ভোটই পাননি।

আরিফ উর রহমান টগর/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।