বংশাই-ঝিনাই নদী
ভাঙনে বিলীনের পথে শতবর্ষী হাটের একমাত্র রাস্তা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বংশাই ও ঝিনাই নদীর পানি আবার বাড়ছে। এতে নদীর তীরে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের নদী তীরবর্তী ঘরবাড়িসহ ও কয়েকশ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়া সদরের সঙ্গে উত্তর মির্জাপুরের যোগাযোগ রক্ষাকারী কুরনী-ফতেপুর রাস্তাটিও ভাঙনের কবলে পড়েছে।
এরই মধ্যে ফতেপুর বাজারের দক্ষিণপাশে রাস্তাটির প্রায় তিনশ ফুট এবং থলপাড়া এলাকায় প্রায় ৬০০ ফুট নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের কবল থেকে রাস্তা ও ঘর-বাড়ি রক্ষা করতে অনেকেই নদীর কিনারে গাছ ও বাঁশ ফেলে ভাঙন রক্ষার চেষ্টা করছেন। সড়কটি রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
এদিকে ভাঙন যাতে না হয় সেজন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই গঙ্গা মায়ের নামে ভোগ দিচ্ছেন। আবার অনেকেই লবণ চিনি, দুধ, কলা, বাতাসা, মিষ্টিসহ হিন্দু শাস্ত্র্রে যা যা দিতে হয় তা সব নদীতে ফেলছেন।
এলাকাবাসী জানায়, বংশাই ও ঝিনাই নদীর পানি বাড়ছে। এতে ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া, ফতেপুর, বানকাটা, চাকলেশ্বর, বৈলানপুর, পাতিলাপাড়া ও ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় এরই মধ্যে রাস্তা, ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। বানকাটা ও গোড়াইল গ্রামের দরিদ্র পরিবারের অনেকেই বসত বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। হিলড়া বাজারের উত্তর পাশের অধিকাংশ জায়গা এবং বাজারের পাশের এলজিইডির রাস্তা-কালভার্ট ভেঙে গেছে। বিলীন হয়েছে শত শত একর আবাদি জমি।
এছাড়া উপজেলা সদরের সঙ্গে ফতেপুর ইউনিয়নের যোগাযোগের প্রধান সড়ক কুরনী-ফতেপুর সড়কের ফতেপুর বাজারের দক্ষিণপাশে সড়কটি নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে বেশির ভাগ সড়ক নদীগর্ভে চলে গেছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে ফতেপুর বাজার পালপাড়া গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ি। ফলে ওই এলাকায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানান, ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর, বানকাটা, থলপাড়া, পারদিঘী, বৈলানপুর, সুতানরি, বানকাটা ও মহেড়া ইউনিয়নের তেঘুরি, ভাতকুড়া, ছাওয়ালী গ্রামের শত শত গ্রামবাসী ফতেপুর বাজার ঘাট থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় মির্জাপুর সদরসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করতো। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে এলজিইডি মির্জাপুর অফিস গত প্রায় দেড় যুগ আগে কুরনী-ফতেপুর সড়কটি পাকা করে।
এরপর থেকে এ সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। সড়কটিতে ভাঙন শুরু হলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। থলপাড়া এলাকায় পার্শ্ববর্তী জমির ওপর দিয়ে সীমিতভাবে শুধুমাত্র স্থানীয়দের মোটরসাইকেল, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, রিকশা ও ভ্যান চলাচল করতে পারলেও ফতেপুর বাজার পালপাড়া এলাকায় সড়কটির পাশে ঘরবাড়ি থাকায় সে অবস্থাও নেই। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে সড়কটি নদীর সঙ্গে মিশে যাবে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।
ফতেপুর বাজার পালপাড়া গ্রামের কয়েকজন নারী জানান, ভাঙন যাতে না হয় সেজন্য গ্রামের লোকজন গঙ্গা মায়ের নামে ভোগ দিচ্ছেন। গঙ্গার কাছে বাড়িঘর রক্ষা কামনা করে আমরা অনেকেই লবণ চিনি, দুধ, কলা, বাতাসা, মিষ্টিসহ হিন্দু শাস্ত্রে যা যা দিতে হয় তা সব নদীতে দিচ্ছেন। তারা সড়কটি রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ফতেপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদ মিয়া বলেন, কুরনী-ফতেপুর সড়ক দিয়ে থলপাড়া, বৈলানপুর, সুতানরি, হিলড়া ও আদাবাড়ি গ্রামের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে। সড়কটি রক্ষা করা না গেলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারবে না।

ঐতিহ্যবাহী ফতেপুর হাটে আগে বংশাই ও ঝিনাই নদী দিয়ে পাট ও নারিকেল ভর্তি বড় বড় নৌকা আসতো। বর্তমানে নদী ভাঙনে এ হাটের একমাত্র সড়ক বিলীন হতে চলেছে। ছবি: জাগো নিউজ
এ বিষয়ে ফতেপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন, শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী হাট ফতেপুর হাট। এ হাটে আগে বংশাই ও ঝিনাই নদী দিয়ে পাট ও নারিকেল ভর্তি বড় বড় জং নৌকা আসতো। এ ঐতিহ্যবাহী হাটের একমাত্র সড়কটি নদীতে বিলীন হতে চলেছে।
ফতেপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কুরনী-ফতেপুর সড়ক উপজেলা সদরের সঙ্গে উত্তর মির্জাপুরের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। এ সড়ক নদীতে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এ এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে।
ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রউফ বলেন, কুরনী-ফতেপুর সড়ক দিয়ে শুধু উত্তর মির্জাপুরের লোকজনই না, বাসাইল উপজেলার হাজারো মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে। সড়কটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
এস এম এরশাদ/এমআইএইচএস/জেআইএম