ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: চাঁদপুরে লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে চাঁদপুরে সোমবার মধ্যরাত থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম। এছাড়াও নৌ-রুটে দুর্ঘটনা এড়াতে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
চাঁদপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ সোয়েব জানান, চাঁদপুর নদীবন্দর অঞ্চলের ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ও উপকূলীয় চরাঞ্চলে ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর কথা বলা হয়েছে এবং সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত চাঁদপুরে প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে জরুরি সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছি এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কিনা তা বলা যাচ্ছে না।
চাঁদপুর নদীবন্দর কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, সিত্রাং মোকাবিলায় চাঁদপুর নদীবন্দর এলাকায় একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমন্বয় করবেন। নৌ-পথে যাত্রীবাহী লঞ্চের দুর্ঘটনা এড়াতে আমরা সাড়ে ১১টা থেকে চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটের সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছি। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লঞ্চ চলাচল চালু হবে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ৩২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।এছাড়াও এক হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৩৫০ কার্টুন ড্রাইকেক, ৪০০ কার্টুন ডাইজেস্টেট বিস্কুট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ মেট্রিক টন চাল ও জরুরি প্রয়োজনে নগদ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি সভা করেছে জেলা প্রশাসন। সভায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নজরুল ইসলাম আতিক/জেএস/জিকেএস