তিনদিনের ছুটি নিয়ে আড়াই মাস ধরে মালয়েশিয়ায় স্কুলশিক্ষক
বরিশালের মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামসুন নাহার আড়াই মাস ধরে বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত ৪ আগস্ট থেকে তিনদিনের ছুটি নিয়েছিলেন শামসুন নাহার। ছুটি শেষ হলেও তিনি বুধবার (২৬ অক্টোবর) পর্যন্ত কর্মস্থলে যোগ দেননি।
বিদ্যালয় ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক শামসুন নাহারের স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী। তিনদিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে মালয়েশিয়া অবস্থানরত স্বামীর কাছে বেড়াতে যান তিনি। চার বছর পর দেশে ফিরে বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন তিনি।
শামসুন নাহার সোনিয়া উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের সুলতান আহমেদের মেয়ে। তিনি ওই এলাকার ৬৭ নম্বর বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। তার স্বামী মালয়েশিয়ায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন।
শামসুন নাহার মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য দেশ ছাড়ার আগে চাকরির বিষয়টি গোপন করে পাসপোর্টও করেন বলে স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কয়েকজন অভিভাবক জানান, বাহাদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের পাঠদানের জন্য মাত্র চারজন শিক্ষক ছিলেন। গত ৭ আগস্ট থেকে একজন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় এখন মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনোভাবে চলছে। শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক জানান, সহকারী শিক্ষক শামসুন নাহার তিনদিনের ছুটি নেওয়ার সময় বিদ্যালয়ের কাউকে জানাননি। পরবর্তীসময়ে মোবাইল ফোনে মালয়েশিয়া অবস্থানের বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। আরও চার বছর পর দেশে ফিরে বিদ্যালয়ে যোগ দেবেন। তিনি বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত ৩ আগস্ট সহকারী শিক্ষক শামসুন নাহার তিনদিনের ছুটির আবেদন করেন। ৪-৬ আগস্ট পর্যন্ত ছুটির কথা উল্লেখ ছিল আবেদনে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নৈমিত্তিক ছুটি চেয়েছিলেন। তার আবেদন গ্রহণ করে ছুটি দেওয়া হয়। কিন্তু তিনদিন পরও বিদ্যালয়ে যোগদান না করায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার অনুপস্থিতির বিষয়টি ১১ আগস্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়।’
তিনি আরও বলেন, শামসুন নাহারের মালয়েশিয়া অবস্থানের বিষয়টি সম্প্রতি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ছুটি ও বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন জানতে সহকারী শিক্ষক শামসুন নাহারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হয়। তবে ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম জাকিরুল হাসান জানান, অনুমতি ছাড়া কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতির বিষয়টি জেনে ওই শিক্ষিকার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
সাইফ আমীন/এসআর/এএসএম