নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ, হতাশ চাঁদপুরের জেলেরা
সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে নদীতে নেমেছেন চাঁদপুরের জেলেরা। তবে আশানুরূপ মাছ পাননি বলে দাবি তাদের। সারারাত নদীতে কাটিয়ে তেল খরচের টাকাও জোগাড় হয়নি।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় ২২ দিন পর কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছ ঘাটে। সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। ক্রেতা বিক্রেতার হাঁক-ডাকে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মাছ ঘাট।
আড়তদাররা বলছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছের পরিমাণ বাড়বে। আগামী দু-তিন দিন পর ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়বে।
এর আগে ৭ অক্টোবর মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতে নদী ও সাগরে মাছ ধরা ও বিপণন নিষিদ্ধ করে সরকার। শুক্রবার শেষ হয় এ নিষেধাজ্ঞা। মধ্যরাত থেকে নদীতে নেমে পড়েন জেলেরা।

শনিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছ ঘাট ঘুরে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে জেলেরা ঘাটে ফিরতে শুরু করেন। তারা জানান, নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। যা মিলছে তা দিয়ে তেলের খরচ উঠবে না।
শরীফ মাঝি ও সবুজ খান বলেন, ধারদেনা ও কিস্তিতে টাকা নিয়ে নৌকা ও জালের মেরামত করেছি। নদীতে নেমে যদি এমন মাছ পাই তাহলে কিস্তি পরিশোধ করতে পারবো না। দুই হাজার টাকার জ্বালানি তেল নিয়ে সাত-আটজন জেলে নদীতে গেছি। তবে মাছ বিক্রি করেছি মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা।
তারা আরও বলেন, সব খরচ বাদ দিয়ে আমাদরে কপালে জুটবে মাত্র ৩০০-৪০০ টাকা করে। এ টাকা দিয়ে সংসার চালাবো নাকি কিস্তি পরিশোধ করবো তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

আড়তদার হৃদয় খান, নবীর ও বিপ্লব খানসহ বেশ কয়েকজন জানান, প্রথম দিন হিসেবে তুলনামূলক মাছ কিছুটা কম আসলেও ঘাটের কর্মচঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আগামী ১০-১৫ দিন যদি ইলিশ মাছের আমদানি তিন থেকে চার হাজার মণ হয় তাহলে লোকসান পুষিয়ে নেওয়া যাবে। তবে আমদানি কম থাকায় ইলিশের দাম কিছুটা বেশি।
তারা আরও জানান, ঘাটে আসা অধিকাংশ ইলিশ বড় আকারের। ছোট আকারে ইলিশ কম হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা কেজি। এক কেজি ওজনের ইলিশ ১১০০ টাকা কেজি, ১২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৩০০-১৪০০ টাকা কেজি, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ১৬০০-১৭০০ টাকা কেজি।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার জাগো নিউজকে বলেন, প্রথম দিনে চাঁদপুর স্টেশন মাছ ঘাটে এক হাজার মণ ইলিশের আমদানি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে আগামী দু-তিন দিন পর আশা করছি তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মণ ইলিশ সরবরাহ হবে। সে ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে ব্যবসায়ীদের যে ক্ষতি হয়েছে তা অনেকটাই পুষে যাবে।
নজরুল ইসলাম আতিক/জেএস/এমএস