এইচএসসি পরীক্ষা

কোলে চড়ে-কাঁধে ভর দিয়ে হলে গেলেন ২ তরুণী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৭:৪৫ পিএম, ০৬ নভেম্বর ২০২২

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন দুই তরুণী। স্বজনের কোলে ও কাঁধে ভর দিয়ে রোববার তারা প্রথম পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের স্বপ্ন আইন বিভাগে উচ্চশিক্ষা নিয়ে বিচারক হওয়া।

শারীরিক প্রতিবন্ধী দুই পরীক্ষার্থী হলেন- যশোর সদর উপজেলার সিরাজসিংগা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে মিনা খাতুন (২০) এবং একই গ্রামের আব্দুল মজিদ সরদারের মেয়ে তহমিনা (১৯)। দুজনই যশোর মুক্তিযোদ্ধা কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।

রোববার পরীক্ষা কেন্দ্র যশোর কলেজে গিয়ে দেখা যায়, ওই দুই শিক্ষার্থীকে তাদের মা ও স্বজনরা পরীক্ষা হলে নিয়ে এসেছেন। একজন কোলে চড়ে, অন্যজন ঘাড়ে ভর দিয়ে হেঁটে হেঁটে কেন্দ্রে আসেন। ঘণ্টা বাজতেই মিনা হামাগুড়ি দিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেন। অন্যদিকে তহমিনাও তার সহপাঠীর ঘাড়ে ভর দিয়ে পরীক্ষার হলে আসেন।

jagonews24

পরীক্ষা কেন্দ্রে দুই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে আলাদা কক্ষে বসিয়ে অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময়সহ বোর্ড কর্তৃক সব সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরীক্ষা কেন্দ্র যশোর কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাক হোসেন শিম্বা।

তিনি বলেন, এ দুই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা বোর্ড অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় বেশি ধার্য করেছে। সে মোতাবেক বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের পরীক্ষা কেন্দ্রে সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা সুষ্ঠু সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারে।

মিনার বাবা আব্দুস সাত্তার পেশায় একজন ডাব বিক্রেতা। ভ্যানে করে ডাব বিক্রি করে সংসার চালান তিনি। মিনা বলেন, ‘আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী, হাঁটাচলা করতে পারি না। হামাগুড়ি দিয়েই চলাফেরা করি। আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। আইন বিভাগে পড়াশোনা করে বিচারক হতে চাই। কলেজের অধ্যক্ষ দুজনকেই অনেক সহযোগিতা করেছেন। আমাদের বোর্ড অফিস, যাতায়াত খরচ তিনিই বহন করছেন।’

মিনার মা আছিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী একজন ডাব বিক্রেতা। আমরা সংগ্রাম করে সন্তানকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। বিশ্বাস করি আমাদের মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়া স্বত্বেও একদিন তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে। এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীসহ সবার সহযোগিতা চাই।’

jagonews24

অপরদিকে তাহমিনার বাবা কৃষিকাজ করেন। তহমিনা বলেন, ‘আমার মেরুদণ্ডের তিনটি হাড় নেই। তবুও আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। আমারও স্বপ্ন বিচারক হওয়ার।’

তহমিনার মা রেখা পারভিন বলেন, ‘মেয়ের মাজায় হাড় নেই। তিনবার অপারেশন করিয়ে এখন মোটামুটি ও দাঁড়াতে পারে। পরিবারের সদস্যরা ও শিক্ষকরা সবাই আশাবাদী তারা দুজনই ভালো ফলাফল করবে।’

যশোর মুক্তিযোদ্ধা কলেজের অধ্যক্ষ ড. গৌর চন্দ্র মিস্ত্রী বলেন, মিনা ও তহমিনা আমার কলেজের ছাত্রী। তারা দুজনই মেধাবী। তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করে এসেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এবারও তারা ভালো ফলাফল করবে। তাদের যে স্বপ্ন, সে স্বপ্ন তারা একদিন বাস্তবায়ন করবে।

মিলন রহমান/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।