ফেনীর ৬ সরকারি হাসপাতাল

টেকনোলজিস্টের অভাবে ‘বাক্সবন্দি’ এক্স-রে মেশিন

আব্দুল্লাহ আল-মামুন
আব্দুল্লাহ আল-মামুন আব্দুল্লাহ আল-মামুন , জেলা প্রতিনিধি, ফেনী ফেনী
প্রকাশিত: ০৫:১৩ পিএম, ০৮ নভেম্বর ২০২২

ফেনী জেনারেল হাসপাতাল ও ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়া জেলার আর কোনো সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন চালু নেই। সোনাগাজী, ফুলগাজী, পরশুরাম ও দাগনভূঞা থাকলেও তা বাক্সবন্দি। ফেনীর মহিপালে অবস্থিত ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টার ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালে এক্স-রে করা হয় না বহু বছর।

হাসপাতালগুলোতে কোটি টাকা দামের নতুন এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করা হলেও দক্ষ লোকবলের অভাবে সেগুলো স্থাপন (ইনস্টল) করা যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি এক্স-রে মেশিন থাকলেও ১০ বছর ধরে সেবা পাচ্ছেন না মানুষ। এ উপজেলায় ২০১৬ সালে ৩০০ এমএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন দেওয়া হয়। সেটি স্থাপন করা হলেও চালানোর জন্য দক্ষ লোক নেই। এরপর ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ৫০০ এমএ ক্ষমতাসম্পন্ন সিমেন্স কোম্পানির আরেকটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন সেখানে পাঠানো হয়। তবে তা এখনো স্থাপন করা হয় নি।

একই অবস্থা পরশুরাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক্স-রে মেশিন নষ্ট হয়ে যায় ২০১৬ সালে। সেটি মেরামত না করেই ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ৫০০ এমএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন দেওয়া হয়। কিন্তু মেশিনটি স্থাপন করার মতো দক্ষ লোক না থাকায় সেটি বাক্সবন্দি পড়ে আছে।

দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১৩ সাল থেকে এক্স-রে করা হয় না। ২০২১ সালের ২ মার্চ ৫০০ এমএ ফিলিপস কোম্পানির একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন দেওয়া হয়। কিন্তু স্থাপন না হওয়ায় তা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সোনাগাজী উপজেলায় নতুন ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ দেয়। তবে তা চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি আজও।

সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব টেকনোলজিস্ট মাহবুব আলম জানান, ২০০৭ সালে জানে আলম ও ২০১৩ সালে মাহবুব আলম নামের দুজন এক্স-রে টেকনালজিস্ট হাসপাতালে যোগ দেন। কিন্তু এক্স-রে মেশিন বিকল হওয়ায় দু-এক মাস পর তারা বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান।

একই অবস্থা ফুলগাজী উপজেলায়ও। প্রায় ১০ বছর ধরে সেখানে কোনো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নেই। দাগনভূঞা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এক্স-রে করার মতো লোক নেই ২০০৮ সাল থেকে।

ফেনীর মহিপাল এলাকার ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টারে ১৫ বছর ও ফেনীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ১০ বছর ধরে টেকনোলজিস্ট নেই। এ কারণে এসব হাসপাতালেও এক্স-রে করা হয় না।

সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হোসনেয়ারা বেগম নামের এক রোগী বলেন, ‌‘ডাক্তার এক্স-রে করতে বলেছে। এখানে এক্স-রে করার ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে করতে হবে। আমি দরিদ্র মানুষ, সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছি।’

দাগনভূঞা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শরিফুল হক বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে গরিব ও অসহায় রোগীদের এক্স-রে করতে কোনো ফি নেওয়া হয় না। কিন্তু অপেক্ষাকৃত সচ্ছল রোগীদের জন্য এক্স-রে করতে ফি দিতে হয় ৫৫-৭০ টাকা। তবে এক্স-রে যন্ত্র নষ্ট থাকায় গরিব রোগীরা এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বেসরকারি ক্লিনিকে এক্স-রে করাতে খরচ পড়ে ২৫০-৩৫০ টাকা।’

পরশুরাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা আবু ইউসুফ বলেন, ‘হাসপাতালের লোকদের কাছ থেকে শুনেছি এখানকার ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে। বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে দ্বিগুণেরও বেশি টাকা খরচে এক্স-রে করিয়েছি।’

জানতে চাইলে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. রফিক-উস ছালেহীন জাগো নিউজকে বলেন, স্বাস্থ্য কর্মীদের ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপন ও পরিচালনার প্রশিক্ষণ নেই। থ্রি আই মার্চেন্ডাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ফেনীতে নতুন ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনগুলো সরবরাহ করেছে। সেগুলো ইনস্টল করতে ওই প্রতিষ্ঠানকে অনেকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা আসেননি।

এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।