লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শুরু
লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন চলছে। মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে জেলা স্টেডিয়ামের সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও মাহবুব-উল আলম হানিফ সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন। তারা দুপুর পৌনে ১টায় সস্মেলনস্থলে পৌঁছান।
এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে বর্ণিল আয়োজন করা হয়েছে। দুই শতাধিক তোরণ, রং-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টারে সয়লাব লক্ষ্মীপুর ও রায়পুর পৌর শহরের উপকণ্ঠ। তবে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নকে ঘিরেই সম্মেলনের আমেজ বেশি।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে সম্মেলনে তিন কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। রাজকীয় এ আয়োজন সফল করতে অর্ধলাখ নেতাকর্মী জমায়েত হয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৩ মার্চ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা হয়। এতে গোলাম ফারুক পিংকুকে সভাপতি ও নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় একাধিকবার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও করোনার কারণে তা হয়নি। এরইমধ্যে এ কমিটির সাতজন নেতা মারা গেছেন। নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য।
লক্ষ্মীপুর শহর ঘুরে দেখা গেছে, সম্মেলনে সম্ভাব্য সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা প্রতিযোগিতা দিয়ে রং-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন, পোস্টার, তোরণ, বিলবোর্ড সাটিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতা এবং প্রার্থীদের রঙিন ছবিজুড়ে দিয়ে শুভেচ্ছা প্রচারণা চালাচ্ছেন। অতিথিদের নাম জানান দিয়ে পৌর শহরে মাইকিং করা হয়েছে কয়েকদিন ধরে। সমানতালে ফেসবুকেও প্রচার চালিয়েছেন নেতাকর্মীরা। আয়োজন সফল করতে ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভাপতি প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, জেলা কমিটির সহ-সভাপতি সফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, জেলা কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোজাম্মেল হক মিলন, নুরুল হুদা পাটওয়ারী রয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রাসেল মাহমুদ ভূঁইয়া মান্না বলেন, এখন অনেকেই প্রার্থী হচ্ছেন। কিন্তু তারা আট বছরে ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। প্রার্থীদের সৎ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ-অবদান মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। এর সঙ্গে তরুণ নেতৃত্ব উপহার দিতে পারলে তৃণমূলে দলকে আরও শক্তিশালী করা যাবে।
সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, জেলার তৃণমূলের প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যন্ত আমি গিয়ে দলের হয়ে কাজ করে যাচ্ছি। দল আমার শ্রমের মূল্যায়ন করবে। নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে আমরা উৎসবের পরিবেশ করেছি।
সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, আমরা জেলা কমিটি দুই কোটি টাকা খরচ করেছি। এছাড়া অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে খরচ করছেন। উপজেলাগুলোর নেতারাও নিজেদের উদ্যোগে আরও অন্তত এক কোটি টাকা ব্যয় করেছেন।
কাজল কায়েস/এমআরআর/জিকেএস