ঠাকুরগাঁওয়ে সার নিয়ে বিপাকে আলুচাষিরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০১:১৩ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২২

ঠাকুরগাঁওয়ে আমন ধান ঘরে তোলার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত ও রোপণের কাজ। এতে ব্যস্ত সময় পাড় করছে কৃষকরা। একই সঙ্গে রাসায়নিক সার সময় মতো ও সঠিক দামে না পাওয়ায় কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে।

আমনের পর পরই এ জেলার কৃষকরা আলু চাষ শুরু করেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিবারের মতো এবারও ধান কাটা শেষে আলু চাষের জন্য কৃষকরা জমি প্রস্তুত ও রোপণ শুরু করেছেন। কিন্তু রাসায়নিক সারের বাড়তি দাম ও পর্যাপ্ত পরিমাণে সার না পাওয়ায় কৃষদের কপালে পরেছে চিন্তার ভাঁজ। এতে আলু চাষ নিয়ে হতাশ কৃষকরা।

দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাচ্ছেন না। আর খুচরা বাজারে সারের দ্বিগুণ দাম। তার পরেও পর্যাপ্ত পরিমাণে সার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের।

আলু চাষি কিয়ামত আলী বলেন, খুচরা বাজারে পটাশ সারের ৫০ কেজির বস্তা ১৬০০ টাকা, ইউরিয়া এক হাজার, ডেপ ১২০০ টাকা করে বিক্রয় হচ্ছে। তার পরেও পটাশ সার পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পাচ্ছি না। যারা বড় বড় কৃষক তারা সার পাচ্ছে। আর আমার মতো ক্ষুদ্র কৃষকরা সার পাচ্ছে না।

কিসমত নামে আলু চাষি বলেন, আলু চাষ করতে চেয়েছিলাম দুই একর কিন্তু সারের কারণে এখন এক একর জমিতে আলু রোপণ করছি। এভাবে চলতে থাকলে আমরা কিভাবে চাষাবাদ করবো। সারের দাম বেশি। কিন্তু বেশি দামেও পর্যাপ্ত সার পাওয়া যাচ্ছে না।

কৃষক সাচ্চু বলেন, এবার সারের এতো সংকট যা কল্পনা করা যায় না। ডিলারের কাছে পটাশ সার নেই বললেই চলে। আর বাইরে দ্বিগুণ দাম। এভাবে শুধু আলু না যেকোনো ফসল চাষ করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। একদিকে সব কিছুর দাম ঊর্ধ্বগতি আর অন্যদিকে সারের সংকট। তাই আমরা চরম বিপাকে পরেছি। এতে আমরা হুমকির মুখে।

কৃষক সালেক উদ্দীন বলেন, এবার সারসহ অন্যান্য কিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় একর প্রতি আলু চাষে ১০-১৫ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও শিবগঞ্জ বিএডিসির উপ-সহকারী পরিচালক (সার) জিল্লুর রহমান বলেন, সারের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। বরাদ্দ পেলে সার সরবরাহ করা হবে। সারের বিষয়ে সরকারের যথেষ্ট অগ্রগতি আছে।



জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, গত বছর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছিল ২৭ হাজার হেক্টর জমি কিন্তু এবার তার থেকে প্রায় ২ হেক্টর কম লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার ৩০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আলু রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ড. আব্দুল আজিজ বলছেন, সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকরা মনে করছেন পরবর্তীতে তারা আর সার পাবেন না। তাই এখন থেকেই সার মজুত করতে হুমড়ি খাচ্ছেন তারা। সারের জন্য কোনো প্রকার আলু বা অন্য কোনো ফসলের ক্ষতি হবে না।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো.সামসুজ্জামান বলেন, যারা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রয় করছেন তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। একই সঙ্গে সারের বাজার মনিটরিং অব্যাহত আছে।

তানভীর হাসান তানু/জেএস/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।