‘এই বয়সে এসএসসি পাস করবো কখনো ভাবিনি’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ১১:১২ এএম, ৩০ নভেম্বর ২০২২

কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের মোছা. গোলাপী বেগম (৩৭) পেশায় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ভাতাপ্রাপ্ত কর্মচারী। অল্প বয়সে বিয়ে আর অভাবের সংসারে পড়ে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় তার। কিন্তু নিজের ভেতরে লালিত স্বপ্নটাকে শেষ হতে দেননি। অদম্য ইচ্ছেশক্তির জোরে ৩৭ বছর বয়সে এসএসসি পাস করলেন এ নারী। এ বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৯৩ পেয়েছেন তিনি।

গত সোমবার সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর গোলাপী বেগমের পাস করার খবরে এলাকায় হইচই পড়ে যায়। তার স্বামী লুৎফর রহমান কুড়িগ্রাম পৌরসভার ভাতাপ্রাপ্ত কর্মচারী হিসেবে কর্মরত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোলাপী বেগমের পরীক্ষার ফলাফল শিট ও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ৩ মার্চ ১৯৮৫ সাল। সে হিসাবে তার বর্তমান বয়স ৩৭ বছর। ২০০২ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন বিয়ে হয়ে যায়। স্বামীর বাড়িতে গিয়ে আর পড়ার টেবিলে বসা হয়নি তার।

অভাবের সংসারে স্বামীর সঙ্গে হাল ধরতে ২০১৬ সালে গোলাপী বেগম কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে ভাতাপ্রাপ্ত কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তখন তিনি শিক্ষার গুরুত্ব আরও মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মীর্জা মো. নাসির উদ্দিনের অনুপ্রেরণায় আবার পড়ালেখা শুরু করেন। ২০২০ সালে কুড়িগ্রাম কামিল আলিয়া মাদরাসায় ভোকেশনাল কোর্সে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ২০২২ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি দাখিল পাস করেন।

গোলাপী বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ফলাফলের দিন সকাল থেকে মনটা ছটফট করছিল। আমি কলেজে ছিলাম, কলেজের ইংরেজি বিভাগের কম্পিউটারে আমার রোল দিয়ে জানতে পারি পাস করেছি। এই বয়সে এসেও যে এসএসসি পাস করতে পারবো কখনো ভাবিনি। খুব ভাল লাগছে। অধ্যক্ষ স্যারের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব হতো না। চাকরিতে কোনো বাধা না এলে আমার ইচ্ছে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাস্টার্স সম্পন্ন করবো।

তিনি আরও বলেন, এসএসসি পাস করার কথা শুনে আমার স্বামী খুব খুশি। আমার ছেলে ঢাকায় থাকে, আমার জন্য একটা জ্যাকেট (শীতের পোশাক) কিনে কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠিয়েছে।

কুড়িগ্রাম কামিল আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. নুর বখত জাগো নিউজকে বলেন, ৪০ বছর বয়সের যে কোনো শিক্ষার্থী ভোকেশনালে ভর্তি হতে পারেন। এ বছর আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ভোকেশনাল কোর্সে ৪৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩১ জন পাস করেছে। গোলাপী বেগম তাদের একজন। তার রেজাল্ট ভোকেশনাল কোর্সে সবার থেকে ভালো।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মীর্জা মো, নাসির উদ্দিন বলেন, গোলাপী বেগম এ কলেজের ভাতাপ্রাপ্ত কর্মচারী। আমি শুনেছি নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার বিয়ে হয়। লেখাপড়ার প্রতি তার অতি আগ্রহের কথা জানতে পেরে আমি তাকে উন্মুক্ত কোর্সে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিই। ২০২২ সালের দাখিল পরীক্ষায় সে জিপিএ ৪.৯৩ পেয়ে পাস করেছে। কলেজের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়েছি। সে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ তার পাশে থাকবে।

ফজলুল করিম ফারাজী/এমকেআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।