১৮ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, দিনাজপুর পৌরসভার সংযোগ বিচ্ছিন্ন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৪:২৬ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২২

বিল বকেয়া থাকায় দিনাজপুর পৌরসভার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান নেসকো। এতে দিনাজপুর পৌরসভার সবধরনের সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষ সেবা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় পৌরসভার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় নেসকো।

দিনাজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ১৮ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টানা তিনবারের মতো দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। প্রায় ১৫ বছর আগে দেড় কোটি টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এরপর ঠিকমতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেননি। এতে মোট বিদ্যুৎ বিল বকেয়া দাঁড়ায় ১৮ কোটি টাকা।

বিল পরিশোধ করতে একাধিকবার নোটিশও দিয়েছে নেসকো দিনাজপুর-১ ও দিনাজপুর-২। এরপরও পৌর কর্তৃপক্ষ বকেয়া বিল পরিশোধ করেনি। এতে মঙ্গলবার পৌরসভা কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় নেসকো।

এ বিষয়ে কথা বলতে দিনাজপুর পৌরসভায় মেয়রের কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে কথা হয় প্যানেল মেয়র আবু তৈয়ব আলী দুলালের সঙ্গে। তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গোটা পৌরভবন অন্ধকারে রয়েছে। এতে পৌরসভার টিকা, জন্মনিবন্ধনসহ সবধরনের সেবা বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে জেনারেটর ব্যবহার করা হচ্ছে।’

পৌরসভার হেপাটাইসিস বি’র টিকাকর্মী নার্গিস বেগম বলেন, দিনাজপুর পৌরসভায় চার হাজার করোনাসহ হেপাটাইসিস বি’র টিকা রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এগুলো নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি

পৌরসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে বসে রয়েছি। তবে কত টাকা বকেয়ার জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে তা জানা নেই।’

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মিনারুল ইসলাম খান বলেন, ১৮ কোটি টাকার বিল বকেয়া থাকায় পৌরসভার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে দিনাজপুর পৌরসভাও বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে ভ্যাট ও ট্যাক্সের টাকা পাবে।

নেসকো দিনাজপুর-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শাহাদৎ হোসেন বলেন, আমরা শুধু পৌরভবনের লাইন বিচ্ছিন্ন করেছি। কিন্তু রাস্তার ধারে পোলের লাইন বিচ্ছিন্ন করিনি।

টিকা নষ্টের বিষয়ে দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. এ এইচ এম বোরহান-উল-ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, নরমালি ৭২ ঘণ্টায় টিকা নষ্ট হবে না। তারপরও যেহেতু পৌরসভার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, তাই টিকাগুলো জেলা ইপিআই স্টোরে নিয়ে এসে রাখা হবে।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জুলফিকার আলী স্বপ্ন বলেন, ‘দুই বছর হলো আমি নির্বাচিত হয়ে এসেছি। এ পর্যন্ত ২৪টিরও বেশি মিটিং হয়েছে এই পরিষদে। কিন্তু মেয়র সাহেব বিদ্যুৎ বিল বকেয়া নিয়ে কোনোদিন কোনো আলোচনা করেননি। আজ পৌরসভায় এসে দেখলাম বিদ্যুৎ নেই । মানুষ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। তারা সেবা না নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।’

এমদাদুল হক মিলন/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।