গাইবান্ধা

দাম কম, সরকারি গুদামে চাল দিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৪:০১ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২
ফাইল ছবি

বাজারদরের চেয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্য কম হওয়ায় গাইবান্ধায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে চাল কেনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও খাদ্য বিভাগের সঙ্গে ক্রয়চুক্তি করেননি চালকল মালিকরা। লোকসান করে সরকারি গুদামে চাল দিতে চান না তারা। তবে খাদ্য বিভাগ বলছে, চালের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে সরকারিভাবে প্রতি কেজি চাল ৪২ টাকা দরে কেনার সিদ্ধান্ত হয়। ওই দরে গাইবান্ধায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১১ হাজার ৯৮৬ টন চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে খাদ্যবিভাগ।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চালকল মালিকদের চুক্তিবদ্ধ হওয়ার শেষ দিন ছিল ২৬ নভেম্বর। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও গাইবান্ধার সাত উপজেলার ৭৫৯টি চালকল মালিকের দু-একজন ছাড়া কেউই চুক্তি করেননি। পরবর্তীতে এ চুক্তির মেয়াদ ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সময় বর্ধিত করলেও ৪২ টাকা দরে চাল দিতে এখনো নারাজ চালকল মালিকরা।

চালকল মালিক রিসালত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী লাভলু মিয়া বলেন, ‘বাজার মূল্য থেকে বেশি দিয়ে ক্রয় করলে আমরা সরকারকে চাল দেবো। কম দামে সরকারকে চাল দিয়ে ব্যবসায়িক ক্ষতি করতে আমরা রাজি নই।’

মেসার্স রোহান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আকরাম হোসেন বলনে, ‘সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে চালের দাম বেশি। এ কারণে চালকল মালিকরা লোকসান করে সরকারি খাদ্য গুদামে চাল দিতে আগ্রহী না।’

জেলা চালকল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও আতাউর চালকলের স্বত্বাধিকারী আতাউর রহমান বাদল জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাজারে প্রতিমণ ধানের মূল্য ১২০০-১৩০০ টাকা। তাই বাজার থেকে চড়া দামে ধান ক্রয় করে গুদামে কম দামে চাল সরবরাহ করা সম্ভব নয়। এছাড়া এ বছর সরবরাহকৃত চালের মোট বিলের ওপর সরকার ২% হারে উৎস্যকর ধার্য করেছে, যা দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতি করে কেউ ব্যবসা করবে না। তাই চালকল মালিকরা খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন না। খাদ্য বিভাগের সঙ্গে বর্তমান বাজারদর নিয়ে জেলা চালকল মালিক সমিতির নেতার আলোচনা চলছে। আশা করি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি ও প্রধান গ্রুপের স্বত্বাধিকারী নাজির হোসেন প্রধান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ধান কিনে চাল তৈরির পর মিটার পাশের জন্য চাল শুকানো ও গুদাম পর্যন্ত পরিবহনে খরচ বেশি হচ্ছে। এতে চালের দাম পড়ছে কেজি প্রতি ৪৫ টাকা। কিন্তু সরকার যে দাম ধরে দিয়েছে তাতে আমাদের লোকসান হবে ৩-৪ টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা কেজির কথা বলছেন কিন্তু আমারা টনের হিসাব করছি। আমাদের প্রত্যেক চালকল মালিকের টন প্রতি লোকসান হবে ৩-৪ হাজার টাকা। চালের দাম বাড়িয়ে না দিলে আমার মিল মালিকরা চাল গুদামে সরবরাহ করবো না।’

এদিকে চালের দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন গাইবান্ধা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অন্তরা মল্লিক। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সরকার মোট বিলের ওপর ২% উৎস্যকর ধার্য করায় চালকল মালিকরা চাল দিতে আগ্রহী হচ্ছে না। তবে সরকারিভাবে চাল কিনতে উপজেলা ও জেলার চালকল মালিকদের বোঝানোর চেষ্টা চলছে। ৮ ডিসেম্বর বর্ধিত সময়ের মধ্যে চালকল মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা হবে।

এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।