ফেনীর সোনাগাজী
বন্যকুকুরের আক্রমণে ১৭৫ ভেড়ার মৃত্যু, খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক
ফেনীর সোনাগাজীতে বন্যকুকুরের আক্রমণে ১৭৫টি ভেড়ার মৃত্যু হয়েছে। ভেড়াগুলোর বাজারমূল্য আনুমানিক ২০ লাখ টাকা।
শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের আবদুল্ল্যাহর চরে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা কুকুরের ভয়ে তাদের গবাদিপশু সার্বক্ষণিক পাহারা দিচ্ছেন। মাঠে চরাতে কেউ সাহস পাচ্ছেন না।
ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিক নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম শাহীন।
তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পার্শ্ববতী সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের আবুল্ল্যার চরে আমার নামে একটি ভেড়ার খামার গড়ে তুলেছি। খামারে মোট ২৭৫টি ভেড়া ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে খামারের রাখাল সেলিম পাশের বাজারে নাস্তা করতে যান। এ সুযোগে ছয়টি বন্যকুকুর ভেড়ার খামারে হানা দেয়। ওই সময় ছয়টি কুকুরের কামড়ে মোট ১৭৫টি ভেড়া মারা যায়। মারা যাওয়া ভেড়ার মধ্যে ১২০টি গর্ভবতী ছিল।
খামারিদের অভিযোগ, এখানকার খামারিদের বিপদে-আপদে সরকারি কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ব্যস্ততা দেখান। কখনো খামারে এলেও তাদের ফিস দিতে হয়।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুক্রবার রাতে কুকুরের কামড়ে শতাধিক ভেড়া মারা গেলেও এখন (সন্ধ্যা ৬টা) পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
সোনাগাজী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুপন নন্দী বলেন, ঘটনাটি আমাকে লোকজন মোবাইলে জানিয়েছেন। আমি এখন ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। পরে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন বলেন, খামারিদের বিপদে-আপদে পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা প্রাণিসম্পদ বিভাগের দায়িত্ব। কিন্তুু চরাঞ্চলে শতাধিক ভেড়া মারা যাওয়ার ঘটনার পর পুরো দিন কেটে গেলেও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যাননি। বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।
জানতে চাইলে ফেনী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনা ঘটার ১২ ঘণ্টা পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ঘটনাস্থলে না পৌঁছানো দুঃখজনক। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এসআর/জেআইএম