নেচে-গেয়ে ঝাড়ফুঁকে প্যারালাইসিস রোগীর চিকিৎসা!
নদীর তীরে বসা প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত রাবেয়া খাতুন। তাকে ঘিরে দুই হাতে তালি বাজিয়ে নাচ-গান করছে কুমারী কিশোরীরা। এর তালে তালে ঝাড়ফুঁকের সঙ্গে রোগীর শরীরে বাম পা দিয়ে লাথি মারছেন কবিরাজ আকালিয়া।
সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীর শহড়াবাড়ি ঘাট এলাকায় অপচিকিৎসার এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বাকশাপাড়া গ্রামের মোনছের আলীর স্ত্রী রাবেয়া খাতুন। দুই বছর ধরে তিনি প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত। তাকে সুস্থ করতে কবিরাজের এমন আয়োজন। রোগীর বাড়িতে ১৪ দিন চিকিৎসা চলে। এরই ধারাবাহিকতায় রোগীর শরীরে দিতে হবে সাত ঘাটের পানি পড়া। তাই যমুনা নদীর ঘাটে রাবেয়াকে নিয়ে এসেছেন কবিরাজসহ তার সহযোগীরা। সেখানে নাচ আর গানের তালে রোগীর শরীরে ছিটানো হচ্ছে পড়া পানি। একই সঙ্গে থেমে থেমে চলে কবিরাজের মন্ত্রপাঠ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কবিরাজ আকালিয়া একই এলাকার দক্ষিণ পাইকপাড়া গ্রামের পিয়ার আলীর ছেলে। বিশেষত প্যারালাইসিস রোগীর চিকিৎসা করান আকালিয়া। এ জন্য একজন রোগীর কাছ থেকে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নেন। ঝাড়ফুঁকের সময় তার সঙ্গে চার-পাঁচ জন কিশোরীও থাকে। এরা সবাই ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তাদেরও কিছু সম্মানী দেন কবিরাজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কিশোরী বলে, ‘এতে আমাদের আনন্দ লাগে। রোগীও ভালো হয়, আমরা টাকাও পাই।’
এ বিষয়ে কবিরাজ আকালিয়া বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর ধরে এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা করছি। এতে অনেক রোগী সুস্থ হয়েছে। ঝাড়ফুঁক করতে অনেক সময় লাগে। এ সময় রোগীরা বিরক্ত হয়। ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। তাই বিনোদনের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করা হয়।’
অসুস্থ রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘দুবছর ধরে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছি। অনেক ভালো ভালো চিকিৎসকের কাছে গিয়েছি। কিন্তু রোগ ভালো হয়নি। তবে এ কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিয়ে আমি অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠছি।’
ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সাদেকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, গ্রাম অঞ্চলে এসব কুসংস্কার এখনো আছে। এ ধরনের অপচিকিৎসার কোনো ভিত্তি নেই। রোগব্যাধি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। গ্রামের মানুষের সরলতা আর অজ্ঞতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমন অচিকিৎসা শুধু অনিরাপদই নয়, থাকে মৃত্যুর ঝুঁকিও।
এসজে/জিকেএস