শীতে বিপর্যস্ত ফেনীর জনজীবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ১০:০১ এএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০২২

ফেনীতে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তিনদিন ধরে ফেনীতে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দেখা মিলছে না সূর্যের। হিমেল বাতাস ও ঘনকুয়াশা শীতের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। তীব্র শীতের কারণে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা।

পথচারী করিম মিয়া বলেন, তিনদিন ধরে হঠাৎ করে এমন শীত পড়েছে, যে ঘর থেকে বের হওয়া কষ্টকর। শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নানা রোগ বালাই। জ্বর-সর্দি ও কাশিসহ নানা ধরনের অসুখ হচ্ছে। বেড়েছে ছোট বাচ্চাদের অসুখ-বিসুখও। এর উপর দিনের বেলা হালকা গরম লাগলেও বিকালের পর থেকে বাড়তে থাকে শীতের মাত্রা।

শিক্ষার্থী ফারহান মাহতাব অয়ন বলেন, সকালে কোচিং করতে যেতে হয়। কিন্তু কয়েকদিন ধরে বেশ শীত পড়েছে এতে করে আমাদের যেতে খুব কষ্ট হয়।

শীতে বিপর্যস্ত ফেনীর জনজীবন

বৃদ্ধ রবিউল হক বলেন, কি আর বলবো শীতের কথা, কয়েকদিন ধরে যে শীত পড়েছে, তাতে বাঁচাই দায়। একে তো ডায়াবেটিস, এর জন্য সকালে হাঁটতে যাওয়ারও উপায় নেই। তার ওপর সর্দি-কাশিতো লেগেই আছে। শীতে আমাদের মতো বয়স্কদের জন্য খুবই কষ্ট।

এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে সাধারণ পরিবহন।

শীতে বিপর্যস্ত ফেনীর জনজীবন

সদর উপজেলার কৃষিশ্রমিক খাদেম ও সাইফুল বলেন, তীব্র শীতে হাত-পা জমে যাওয়ার মতো অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে মাঠে থাকাটাও কষ্টকর।

শহরের সহদেবপুর এলাকার আলফাতুন নেছার ভাষ্য, ঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে ক্রমাগত ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করায় ২-৩টা কাঁথা-কম্বল দিয়েও শীত মানানো যাচ্ছে না।

দিনমজুর মমিন হায়দার বলেন, আমরা প্রতিদিন মানুষের বাড়িতে শ্রমিকের কাজ করে যা পাই তা দিয়ে সংসার চলে। কিন্তু যে শীত পড়েছে বাড়ি থেকে বের হওয়া খুব কষ্টকর। কিন্তু বাড়ি থেকে বের না হয়ে উপায়ও নেই। কাজ না করলে তো খাবার মিলবে না।

শীতে বিপর্যস্ত ফেনীর জনজীবন

ফেনী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার মনিরুজ্জামান বলেন, আজ ফেনীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফেনী জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। ধীরে ধীরে শীতের তীব্রতা কমে আসবে। তাপমাত্রা অল্প অল্প করে বাড়তে থাকবে।

এদিকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের চাপ বাড়ছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আসিফ ইকবাল বলেন, হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে থাকা শয্যার তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য ওয়ার্ডগুলোতেও দৈনিক শীতজনিত অসুস্থতা নিয়ে গড়ে আড়াইশ রোগী অবস্থান করছেন। হাসপাতালের বহির্বিভাগেও রোগীর অতিরিক্ত চাপ দেখা যাচ্ছে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/জেএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।