ফরিদপুরে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৫:০৬ পিএম, ০৩ জানুয়ারি ২০২৩

ফরিদপুরে রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২৬) নামের এক ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এরআগে সোমবার (২ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

রাকিবুল ইসলাম ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বেলজানি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল শরিফুল ইসলামের ছেলে। তিনি ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

এ ঘটনায় ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগ কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি না দিলেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সোমবার রাতে শোক প্রকাশ করে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। সেখানে রাকিবুল ইসলামের মৃত্যু ‘সড়ক দুর্ঘটনায়’ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ওই ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু ‘মদ পানে’ হয়েছে বলে বন্ধু, স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফের যৌথ স্বাক্ষরিত ওই শোক বার্তায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ফরিদপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম (সোমবার) বিকেল আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাকিবুল ইসলামের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে।’

তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, সোমবার সকাল ৯টার দিকে ৪২৭৮৩/২৩ সিরিয়ালে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বন্ধু পরিচয়ে আবির নামের এক তরুণ রাকিবুল ইসলামকে ভর্তি করেন। ভর্তির জায়গায় পুলিশ কেস সিল মারা ছিল। হাসপাতালের রেজিস্টার খাতায় ভর্তির কারণ উল্লেখ করা হয়েছে-‘ভমিটিং অ্যালকোহল পয়জনিং’।

ভর্তি করতে এসে বন্ধু আবির জানান, ঘন ঘন বমি করায় রাকিবুল ইসলামকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির একজন নারী কর্মচারী জানান, ভর্তি হওয়ার সময় রাকিবুল আবিরকে বলেছিলেন, ‘মদের সাথে আমাকে কী খাওয়ালি? আমার বুক ও গলা জ্বলে যাচ্ছে।’ এরপর আবির হাসপাতাল থেকে সটকে পড়েন।

এখন পর্যন্ত আবিরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে আবিরের যে মোবাইল নম্বরটি দেওয়া হয় তাতে কল করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ওই হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আতিয়ার রহমান বলেন, ‘এটি একটি পুলিশ কেস। এজন্য রাকিবুলের মৃত্যুর পর যাবতীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে রাকিবুল ইসলাম রাকিবের বড় ভাই রাজিবুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘যতটুকু জানতে পেরেছি থার্টি ফার্স্ট নাইটে বন্ধুদের সঙ্গে হাবিজাবি ও মদ পান করে। পরবর্তীতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বমি করতে থাকে। তার বন্ধুরা তাকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা তাকে স্যালাইন ও ইনজেকশন দেন। এর কিছুসময় পর সোমবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তবে এ বিষয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। তাই থানা পুলিশে যাইনি।’

রাকিবুল ইসলামের চাচাতো ভাই ও স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন মাতুব্বর জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইংরেজি নতুন বছরের রাতে বন্ধুদের সঙ্গে মদ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে রাকিব। একপর্যায়ে বমি করায় তার বন্ধুরা হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর সে মারা যায়। খবর পেয়ে আমরা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসি। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় স্থানীয় বেলজানী-খরসুতী মাদরাসা সংলগ্ন কবরস্থান তাকে দাফন করা হয়েছে।’

ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা চিকিৎসক (আরএমও) মো. আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘন ঘন বমি হচ্ছে বলে রাকিবুলকে ভর্তি করা হয়। তবে তার সমস্যা ছিল অ্যালকোহলজনিত বিষক্রিয়া। তাকে দ্রত আইসিইউতে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।’

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান বলেন, তার জানামতে রাকিবুল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন। পরে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। অ্যালকোহলজনিত মৃত্যুর বিষয়টি তার জানা নেই।

তিনি আরও বলেন, রাকিবুলকে তিনি চেনেন না। কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন করার সময় তার নাম কলম দিয়ে হাতে লিখে দিয়ে অনুমোদন করা হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহরিয়ার বলেন, তার এ মৃত্যু-সংক্রান্ত বিষয়ে কোতোয়ালি থানায় কোনো তথ্য নেই।

এন কে বি নয়ন/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।