ফেনী

৫০০ কেজি পলিথিনে উৎপাদিত হবে ২০০ লিটার গ্রিন ওয়েল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৭:৫১ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২৩

পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে ওঠা প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তেল উৎপাদন করতে ফেনীতে ফুয়েল রিকোভারি পলিথিন রিডিউজ পাইরোলাইসিস প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। ফেনী শহরের সুলতানপুর এলাকায় স্থাপিত এ প্ল্যান্টে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভূঁইয়া ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল।

ফলে পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি পলিথিন হয়ে উঠছে জ্বালানি। এ প্ল্যান্টে ৫০০ কেজি পলিথিন থেকে ২০০ লিটার গ্রিন ওয়েল উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর দেশে যে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে সেটি থেকে উৎপাদিত জ্বালানি তেল গৃহস্থালি ছাড়াও কারখানায় ব্যবহার করা যাবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ফুয়েল রিকোভারি প্ল্যান্ট প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেছে ফেনী পৌরসভা। এ প্ল্যান্টে গৃহস্থালির ব্যবহৃত প্লাস্টিকের খালি বোতল, ব্রাশ, প্রসাধনীর খালি প্যাকেট, খাদ্যদ্রব্যের মোড়কের প্যাকেট, স্যালাইনের প্যাকেট, পানির খালি বোতল, কোমলপানীয়ের বোতল, বাসাবাড়িতে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অপচনশীল প্লাস্টিক দ্রব্য মেশিনে দিয়ে তেল উৎপাদন করা হচ্ছে।

ফেনী শহরের জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রের পাশে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে ১১ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে চার মাস আগে পলিথিন রিডিউজ পাইরোলাইসিস মেশিন স্থাপন করা হয়। এ মেশিনে পলিথিন রিডিউজ করা হলে এখান থেকে গ্রিন ওয়েল নামে একধরনের তেল উৎপাদন হবে, যা জ্বালানি ও বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত হয় বলে জানিয়েছেন ভূঁইয়া ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কনসালটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. আলমগীর হোসাইন।

তিনি বলেন, আগামী তিন বছরের জন্য এ প্রজেক্ট পরিচালনা করা হবে। এখানে মেশিনে রিয়্যাক্টর, এয়ারব্যাগ, কুলিং সিস্টেম, ড্রাফটিং সিস্টেম, গিয়ার বক্স, গ্যাস ওয়াটার, ওয়েল ট্যাংক, প্রেশার গ্রেস, টেম্পারেচার মিটার, ইমারজেন্সি ভারসহ মোট ১১টি যন্ত্রের মাধ্যমে কোনো ধরনের ধোঁয়া বা বায়ুদূষণ ছাড়া পলিথিনকে রিডিউজ করে বাষ্পের সাহায্যে পাইরোলাইসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তেল উৎপাদন করা হবে। এ মেশিনটি চালাতে ১০ জন অপারেটর প্রয়োজন। তবে পরীক্ষামূলক উৎপাদনে আমরা একজন অপারেটর, একজন ম্যানেজার, দুইজন অ্যাসিস্ট্যান্ট দিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এখানে চাহিদামতো পলিথিন সংগ্রহ হলে রিসাইক্লিন ও রিডিউজের মাধ্যমে পাইরোলাইসিস করে প্রতিদিন ৫০০ কেজি পলিথিন থেকে ২০০ লিটার গ্রিন ওয়েল উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

ফেনী পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট তানভীর আহমেদ বলেন, ফেনী পৌরসভার সঙ্গে পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা অরবিট হেলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন চুক্তিবদ্ধ। তারা যদি ঠিকমতো হাসপাতাল ও গৃহস্থালি বর্জ্যের পলিথিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভূঁইয়া ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালকে সাপ্লাই দিতে পারে তা হলে সরকারের ভিশন বাস্তবায়ন হবে।

ফেনী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসাম্মৎ শওকত আরা কলি বলেন, পলিথিন রিডিউজ করে পাইরোলাইসিস প্রক্রিয়ায় তেল উৎপাদন করলে একদিকে পরিবেশ রক্ষা হবে, অন্যদিকে তেল উৎপাদনে আয় বাড়বে। এ প্ল্যান্ট যেসব জেলায় স্থাপন করা হয়েছে সেখানে পরিবেশের আমূল পরিবর্তন হবে। এজন্য শুধু শহর নয় গ্রামের হাট-বাজার, বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত পলিথিন, প্লাস্টিকের খালি বোতলসহ অপচনশীল দ্রব্য নির্দিষ্ট স্থানে জমিয়ে রেখে তা পৌরসভার মাধ্যমে প্ল্যান্টে পাঠানো উত্তম। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে।

ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজি বলেন, পলিথিন প্রক্রিয়াজাত করে তেল উৎপাদন করলে একদিকে পরিবেশ রক্ষা হবে, অন্যদিকে তেল উৎপাদনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হবে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এমআরআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।