যশোর প্রধান ডাকঘরে সঞ্চয় হিসাব থেকে ১৩ লাখ টাকা উত্তোলনের চেষ্টা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৯:৩৭ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

যশোর প্রধান ডাকঘর থেকে মোহাম্মদ আলী (বর্তমানে মৃত) নামের এক ব্যক্তির সঞ্চয়ী হিসাব থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ১৩ লাখ টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন পোস্টমাস্টার জেনারেল খুলনা জোন প্রধান শামসুল আলম। শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে তদন্তকাজ শুরু করবে কমিটি।

এ ঘটনায় বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুল বাকীকে তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ডরিলিজ) করা হয়েছে। তার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন যশোর ডিপিএমজি অফিসের সুপারিনটেনডেন্ট গোলাম রহমান পাটওয়ারী।

যশোর প্রধান ডাকঘর সূত্র জানায়, শহরতলীর উপশহর ই-ব্লক এলাকার মোহাম্মদ আলী নামের এক সঞ্চয়ী হিসাব থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ১৩ লাখ টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়। ওই অ্যাকাউন্টে ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর ১৩ লাখ টাকা সঞ্চয় দেখানো হয়। পরে গত ২ ফেব্রুয়ারি ১৩ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য কাগজপত্র জমা দেখানো হয়। সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি ধরে ফেলেন ডেপুটি পোস্টমাস্টার মেহেরুন্নেছা।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ১৮ মে এক আদেশে ডাকঘরে সঞ্চয় হিসাবে ১০ লাখ টাকার ওপরে রাখা নিষেধ করে দেয় সরকার। কিন্তু সঞ্চয় হিসাব থেকে ১৩ লাখ টাকা উত্তোলন সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখে আমার সন্দেহ হয়। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ওই হিসাবে রয়েছে মাত্র ১০০ টাকা। বিষয়টি খুলনা জোন প্রধানকে জানালে তিনি টাকা উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেন।’

দক্ষিণাঞ্চল খুলনার পোস্টমাস্টার জেনারেল শামসুল আলম বলেন, ঘটনাটি জানার পর আব্দুল বাকীকে তাৎক্ষণিক খুলনা পোস্টাল ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধান করা হয়েছে দক্ষিণাঞ্চল খুলনার ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মাহবুব হোসেনকে। সদস্যরা হলেন যশোরের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মিরাজুল হক, খুলনার সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল ফিরোজ আহমেদ, সুপার বাবুল আক্তার, পরিদর্শক প্রয়োবেশ গাইন ও যশোরের পরিদর্শক পবিত্র কুমার বিশ্বাস।

তদন্ত কমিটির সদস্য যশোরের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মিরাজুল হক বলেন, শুক্রবার থেকে আমরা তদন্তকাজ শুরু করব। শনিবারও চলবে। পরে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে স্ট্যান্ডরিলিজ হওয়া সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুল বাকী বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। কর্মচারীরা তাদের ইচ্ছামতো কাজ করতেন। এ বিষয়ে আমি বাধা দিতাম। সে কারণে আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

মিলন রহমান/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।