ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে সাবদি-দিঘলদী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:১৬ এএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ফুল ভালোবাসার প্রতীক, পবিত্রতার প্রতীক। ফুলকে ভালোবাসে না পৃথিবীতে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। ফুলের সৌরভ এক দিকে যেমন মানুষকে বিমোহিত করে তেমনি এর সৌন্দর্যও প্রাকৃতিকে করে তোলে আকর্ষণীয়।

প্রতিবছরের মতো এবারও ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সাবদি ও দিঘলদী এলাকা। চোখ যেদিকে যাবে শুধু ফুল আর ফুল। এলাকাজুড়ে শুধু ফুলের বাগান। এ ফুল দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে ছুটির দিনে যেন দর্শনার্থীদের ঢল নামে এ এলাকায়।

nara-ful-(8).jpg

এদিকে, ভাষার মাস উপলক্ষে ফুল চাষীদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। কারণ তাদের দরজায় কড়া নাড়ছে তিনটি দিবস। পহেলা ফাগুন, ভালোবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারি এ তিন দিবসকে কেন্দ্র করে তাদের ব্যস্ততা বেড়েছে অনেক বেশি। আর এ বছর তাদের ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

ফুলচাষীদের সঙ্গে কথা জানা যায়, বছরজুড়েই নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার দিঘলদি ও সাবদীসহ কয়েকটি এলাকায় ফুলচাষ হয়ে থাকে। তবে শীত মৌসুমে প্রায় সবাই ফুলচাষ করেন।

nara-ful-(8).jpg

আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারিতে ৭০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা

নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুলের চাহিদার অনেকটাই পূরণ করেন দিঘলদি ও সাবদি এলাকার ফুল চাষিরা। সেই সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এখানকার ফুল যায়। বন্দর উপজেলার দিঘলদি ও সাবদী গ্রামের প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে গাঁদা, গ্লাডিওলাস, চেরি, জাপানি, চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা জাতের ফুল। মাঠের পর মাঠ লাল গাদা ও গ্লাডিওলাস ফুলের দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।

ফিজা নামে এক শিক্ষার্থী জাগো নিউজকে বলেন, প্রতি বছরই এ সময়ে এখানে অনেক ধরনের ফুল পাওয়া যায়। প্রতিবছরই ফুল দেখতে এখানে আসি। আমার কাছে খুব ভালো লাগে।

nara-ful-(8).jpg

আরও পড়ুন: গোলাপের ভালো ফলনেও চাষির কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ

সাইয়েদা অনামিকা নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, এই সময় প্রতি বছরই এখানে আসি। যারা ফুলকে ভালোবাসি তাদের জন্য এটা অনেক ভালো জায়গা। পরিবারের সদস্যদেরও এখানে নিয়ে এসেছি ফুল দেখার জন্য। এ জায়গায় আসলে মনটাই ভালো হয়ে যায়।

এলভি নামের এক দর্শনার্থী বলেন, এখানকার পরিবেশটা অনেক ভালো। এখানে আসলে মন ভালো হয়ে যায়। তাই সময়টা উপভোগ করতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছি। ফুলের টানে প্রতি বছরই এখানে আসা হয়।

nara-ful-(8).jpg

জাকির হোসেন নামে এক ফুলচাষী জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিদিন এখান থেকে ঢাকার শাহবাগে ফুল নিয়ে যাই। প্রতিদিন তিন গাড়ি ফুল ঢাকায় যায়। প্রতিবছরই ১৫-১৬ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করে থাকি। ফুল চাষে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়। অন্য বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন হয়েছে। আশা করছি এ বছর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে ফুল দেখতে আসে। দেখতে এসেও অনেক খুচরা ফুল কেনেন। প্রতিদিন প্রায় ৪-৫ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হয়। তবে শুক্রবার বিক্রি আরও বেড়ে যায়।

nara-ful-(8).jpg

এমদাদ হোসেন নামে আরেক ফুলচাষী বলেন, কয়েকটি দিবসকে কেন্দ্র করে আমরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছি। যদি সব ফুল বিক্রি করতে পারি তাহলে আশা করছি এবার ভালো আয় হবে।

আরও পড়ুন: তেঁতুলিয়ায় সৌরভ ছড়াচ্ছে ভিনদেশি টিউলিপ

বন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা সুলতানা জাগো নিউজকে বলেন, ফুলচাষ লাভজনক ফলন। গতবারের তুলনায় এবার ভালো ফলন হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও সাড়ে চার থেকে পাঁচ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কৃষকরা ফুলচাষ করেছেন।

nara-ful-(8).jpg

নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান জাগো নিউউজকে বলেন, এবার ফুলের ভালো ফলন হয়েছে। ফুল চাষীদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। আশাকরি এবার ফুলচাষীরা লাভবান হবে।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।