বসন্তবরণ-ভালোবাসা দিবসে সৈকতে পর্যটকদের ভিড়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১০:০৬ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

এবার একই দিনে পড়েছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এবং পহেলা ফাল্গুন। এই দুই দিবসকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজন ছিল কক্সবাজারে। সমুদ্রের সান্নিধ্যে প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা জানাতে সৈকতে ভিড় করেন অগণিত পর্যটক ও বিনোদনপ্রেমী।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে নামে মানুষের ঢল। কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে, কেউ আবার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে ছুটে এসেছেন ঢেউয়ের সান্নিধ্যে।

পর্যটকের পাশাপাশি পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন স্থানীয়রাও। ভ্রমণপিপাসুরা ঘুরছেন পাহাড়-সমুদ্রের সেতু বন্ধনে মেরিনড্রাইভ সড়কসহ সৈকতের ডজনাধিক পয়েন্টে। আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় ছিল প্রশাসনের নজরদারি।

বসন্তবরণ আর ভালোবাসা দিবস ঘিরে সাগরের নীল জলরাশির সৌন্দর্য উপভোগে কক্সবাজারে এসেছেন অসংখ্য পর্যটক। শহরের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট অতিথিতে ভরা। পর্যটকরা সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, ইনানী পর্যটন পয়েন্ট ছাড়াও ভ্রমণ করেছেন দরিয়ানগর, হিমছড়ি ঝর্ণা, রামুর বৌদ্ধ বিহার, রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া ও সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। এতে সমুদ্র পাড় উৎসবস্থলে পরিণত হয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক মৌমিতা জাহাঙ্গীর বলেন, শুরু হয়েছে বসন্ত। তার সঙ্গে মিলেছে ভালোবাসা দিবস। সময়টা উপভোগ্য করতে স্বামীকে নিয়ে সৈকত শহরে হানিমুনে এসেছি। চারপাশে ভ্রমণপিপাসু মানুষে ভরপুর। দেখে ভালোই লাগছে।

ঢাকার শিক্ষার্থী আনিকা নিশাত বলেন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস সামনে রেখে সোমবার বন্ধুরা একসঙ্গে মজা করতে কক্সবাজার এসেছি। কলাতলী থেকে ইনানী সি-পার্ল পর্যন্ত কতটা নান্দনিক সৌন্দর্য তা এখানে না এলে বোঝা যেত না। পেছনে পাহাড় আর সামনে নীল জলরাশির বিস্তীর্ণ সাগরের বুকে উপচেপড়া ঢেউ মুহূর্তেই মনে আনন্দ এনে দেয়।

এদিকে, দিবস ঘিরে ফাগুন উৎসব আয়োজন করেছে তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেড। হোটেলের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতকে ঘিরে এগুচ্ছে কক্সবাজারের সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প। তারকা হোটেল হিসেবে পর্যটকদের বিলাসী জীবনে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসের সঙ্গে আমরা আয়োজন করেছি ঋতুরাজ বসন্ত বরণে ‘ফাগুন উৎসব’। উৎসবে পিঠামেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়েছে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার প্যাকেজ। এতে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে হবে র্যাফেল ড্র। বিজয়ীদের মাঝে ডায়মন্ড রিং, হোটেলে ফ্রি থাকাসহ নানা উপহার দেওয়া হয়েছে। হোটেল গেস্টসহ সবার জন্য উন্মুক্ত পার্কিং এরিয়ার অনুষ্ঠান।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ভালোবাসা দিবস পড়ায় রুমের ক্রাইসিস পড়েনি। ফলে ভোগান্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি আগত পর্যটকদের।

ট্যুয়াক সভাপতি আনোয়ার মোস্তফা বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে সৈকতের লাবণী-সুগন্ধা-ডায়াবেটিক পয়েন্ট, দরিয়া নগর, ইনানী, হিমছড়ির বালিয়াড়ি পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে। শীতের শেষ সময়ে ভ্যালেন্টাইন ও বসন্তবরণে পর্যটক-দর্শনার্থী আগমনে সংশ্লিষ্টরা দারুণ খুশি।

কক্সবাজার সি-সেইভ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার মো. ওসমান বলেন, ভালোবাসা দিবসে সৈকতে পর্যটক ও দর্শনার্থী বেড়েছে। গোসলে নামাদের নিরাপত্তায় আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করেছি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মো. জিললুর রহমান বলেন, এবারের ভ্যালেন্টাইন ডে ও ফাগুন উৎসবে বিপুল পরিমাণ পর্যটকের আগমন ঘটেছে। তাদের নিরাপত্তায় সৈকতসহ সব পর্যটন স্পটে ২৪ ঘণ্টা বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তাছাড়া হোটেল-মোটেলের নিরাপত্তায় নিয়মিত টিম কাজ করছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আবু সুফিয়ান বলেন, পর্যটন সেলের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহর নেতৃত্বে সৈকতে সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করেছে। বালিয়াড়ি ও পর্যটন এলাকায় সবার ভ্রমণ আনন্দিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশেষ দিন বলে কথা নেই- যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার সৈকত ছাড়াও পর্যটকরা টেকনাফের মাথিনের কূপ এলাকায়ও বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় করেছে বলে জেনেছি। অনেকে অমর প্রেমের সাক্ষী ধীরাজের প্রতিকৃতির সঙ্গে নিজের ছবি তুলে দিনটিকে স্মৃতিময় করেছেন।

সায়ীদ আলমগীর/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।