রাতের আঁধারে সরানো হচ্ছিল সরকারি ওষুধ, প্রকাশ পেলো ভিডিও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৪:৩০ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২৩

শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে রাতের আঁধারে সরকারি ওষুধ সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি। ওষুধ সরিয়ে নেওয়ার একটি ভিডিও জাগো নিউজের হাতে এসেছে।

গত ২০ মার্চ রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক আবু বকর সিদ্দিক। তবে তার দাবি, ওষুধগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ বলে ফার্মেসির স্টোর রুম থেকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হচ্ছিল।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, আংগারিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি শরীয়তপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আংগারিয়া পুরাতন বাসস্টান্ড এলাকায় অবস্থিত। আংগারিয়া, রুদ্রকর, চিতলিয়া ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে চিকিৎসাসেবা নেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন চিকিৎসক, তিনজন স্বাস্থ্যকর্মী ও একজন ফার্মাসিস্ট রয়েছেন। রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়ার জন্য ২৭ ধরনের ওষুধ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২০ মার্চ রাত ৮টার দিকে একটি ভ্যানে করে কয়েক কার্টন ওষুধ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। ওষুধ নেওয়ার সময় ফার্মাসিস্ট মর্জিনা বেগম ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার তাহমিনা ইসলামকে ভ্যানসহ আটক করেন স্থানীয়রা। পরে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পলাশ খান ওষুধের ভ্যানটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠিয়ে দেন।

ওষুধ নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সঙ্গে ফার্মাসিস্ট মর্জিনা বেগম ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার তাহমিনা ইসলামের কথা বলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

১ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি কয়েকটি কার্টনসহ ওষুধের একটি ভ্যান রাস্তায় থামিয়ে রাখেন। তখন কেউ কেউ এ দৃশ্যের ভিডিও করছিলেন ও ছবি তুলছিলেন। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার তাহমিনা ইসলাম তাদের ছবি তুলতে বাধা দিচ্ছেন। তিনি তাদের বলতে থাকেন, আমাদের হাসপাতালে অডিট হবে। স্যাররা এ ওষুধ দেখলে অসুবিধা হবে তাই এগুলো সরিয়ে নিচ্ছি।

স্থানীয় জিল্লুর রহমান সবুজ বলেন, আমরা কয়েকজন বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ দেখি ভ্যানে করে ওষুধ নেওয়া হচ্ছে। পরে সবাই মিলে বাধা দেই। এভাবেই হয়তো তারা জনগণের ওষুধ সবসময় পাচার করেন। ওষুধের মেয়াদ ছিল বলেও জানান তিনি।

এ বিষয় জানতে চাইলে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার তাহমিনা ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আপনার যা প্রশ্ন আছে, আমার স্যারকে (মেডিকেল অফিসার) করেন। আমার স্যার অল ইন অল।’

ওষুধ সরিয়ে ফেলার বিষয়ে ফার্মাসিস্ট মর্জিনা বেগম কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তখন সেখানে উপস্থিত তার স্বামী নাসির সরদার বলেন, ‘আমার বউ অসুস্থ। সে কথা বলতে পারবে না।’

এ বিষয় জানতে চাইলে আংগারিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক আবু বকর সিদ্দিক প্রথমে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে বলেন, ‘২১ মার্চ আমাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অডিট হয়েছে। এ কারণে রুমগুলো গোছগাছ করা হয়েছিল। তখন ফার্মেসি থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে রাতে সরানো হবে এমনটা আমি জানতাম না। আগে আমাকে জানানো হয়নি।’

জানতে চাইলে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন আবুল হাদি মেহাম্মদ শাহ পরান জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে কোনো ওষুধ বের করতে হলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। কিন্তু রাতের আঁধারে ওষুধ সরিয়ে ফেলার চেষ্টার ঘটনাটি আমার জানা নেই। ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় কারও ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।