খড়ের দামে খুশি কৃষক, বিপাকে খামারি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৫৬ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০২৩

সিরাজগঞ্জে খড়ের দাম বাড়ছে হু হু করে। প্রতি মণ খড় বিক্রি হচ্ছে পাঁচশ থেকে ছয়শ টাকায়। এতে করে কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটলেও বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। এর আগে খড়ের বাজার এমন লাগামহীন হয়নি বলে দাবি খামারিদের।

খামারিরা বলছেন, যে খড়ের দাম আগে ছিল চারশ টাকা মণ ছিল তা এখন ছয়শ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বেশি মূল্য দিয়ে শুধু খড় নয়, দানাদার খাদ্যও কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। অনেকে আবার একটু দাম কম পাওয়ার নিশ্চয়তায় কৃষি জমির মালিককে অগ্রিম টাকাও দিয়ে রাখছেন।

jagonews24

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, কুড়া-ভুসির পাশাপাশি ধানের খড় গরুর জন্য উৎকৃষ্ট খাদ্য। কুড়া-ভুসির সঙ্গে খড় কেটে ভিজিয়ে গরুকে খাওয়ানো হয়। গরুর সঠিক বৃদ্ধির জন্য এই খাদ্যের বিকল্প নেই। তাই খামার অথবা ব্যক্তিগত গরু পালনকারীদের সারাবছরের জন্য খড়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলার চর নারুয়া গ্রামের খামারি নাবেদ আলী জাগো নিউজকে বলেন, আগে ধান মাড়াইয়ের জন্য কোনো যন্ত্র ছিল না। বর্তমানে ধান মাড়াইয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে খড়ের অভাব দেখা দিয়েছে। কারণ, মেশিনে ধান মাড়াই করলে অধিকাংশ খড় নষ্ট হয়ে যায়। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার অনেকাংশেই এজন্য দায়ী।

গো-খাদ্যের সংকট ও দাম লাগামহীন হওয়ায় অনেক খামারি গরু পালনের প্রতি অনীহা প্রকাশ করছেন বলে জানান একই উপজেলার ভাজিয়ারপাড়া গ্রামের বরাত সেখ।

রোববার (২ এপ্রিল) শাহজাদপুর বিসিক বাস্ট্রেন্ড এলাকায় গেলে কথা হয় খড় কিনতে আসা নাবেদ আলীর সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমার খামারে ৪০টি গরু আছে। এখান থেকে গত মাসে ৫৫০ টাকা দরে প্রায় তিনশ মণ খড় কিনেছি। এত দামে আর কতদিন খাওয়াবো?

বিসিক বাস্ট্রেন্ড এলাকার খড় ব্যবসায়ী খোকন সেখ জাগো নিউজকে বলেন, আমরা ৯ জন মিলে বগুড়া ও নওগাঁ থেকে খড়ের পালা কিনে এনে এখানে বিক্রি করি। এ কাজে আরও ৬৫ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে। আগে প্রতিদিন দুই হাজার মণ খড় বিক্রি হতো। এখন এক হাজার মণ বিক্রি হয়। এতে আমাদের প্রতি মণে খরচ হয় ৪৫০ টাকা। আমরা পাঁচশ থেকে ছয়শ টাকায় বিক্রি করি।

তাড়াশ উপজেলার কৃষক মিজান সেখ জাগো নিউজকে জানান, তিনি তার ১০ বিঘা জমির খড় গত বছর বিক্রি করেছিলেন মাত্র ৮০ হাজার টাকা। এবছর একই জমির খড় স্থানীয় ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করেছেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। এ টাকা দিয়ে দিয়ে তিনি একটি গাভী কিনেছেন। খড় বিক্রি করে এত টাকা তিনি প্রথমবার পেলেন বলেও উল্লেখ করেন।

jagonews24

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার জাগো নিউজকে বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে খড়ের দাম একটু বেড়েছে। এতে কৃষকের লাভবান হলেও খামারিরা পড়েছেন বিপাকে। সেজন্য খামারিরা শুধু খড়ের ওপর নির্ভর না হয়ে উন্নত মানের ঘাস চাষ করলে গো-খাদ্যের চাহিদা মেটানো যাবে।

তিনি আরও বলেন, জেলায় গো-খাদ্যের সংকট এড়াতে প্রকল্পের মাধ্যমে রেললাইন, রাস্তার ধারসহ অন্য জমি মিলিয়ে প্রায় ১০০ একর জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষাবাদ করা হচ্ছে, যা জেলার ৫৭টি স্থায়ী বাজারে সকাল ও বিকেলে বিক্রি করা হয়।

এম এ মালেক/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।